Home » অর্থ ও বানিজ্য » তুরস্ককে শায়েস্তা করতে সৌদির ‘বয়কট’ ক্যাম্পেইন
RIYADH, SAUDI ARABIA - MARCH 2: Turkish President Recep Tayyip Erdogan (L) meets King of Saudi Arabia, Salman bin Abdulaziz Al Saud (R) at Riyadh's Erga Palace in Saudi Arabia on March 2, 2015. (Photo by Kayhan Ozer/Anadolu Agency/Getty Images)

তুরস্ককে শায়েস্তা করতে সৌদির ‘বয়কট’ ক্যাম্পেইন

বাংলার কন্ঠস্বর// মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে যখন ইসলাম ধর্ম ও মহানবীর (সা.) অবমাননার জন্য ফরাসি পণ্য বর্জন করা হচ্ছে। তখন ফ্রান্সের পরিবর্তে তুর্কি পণ্য গ্রহণের আওয়াজও জোরালো হয়েছে আরব দেশগুলোতে। তবে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্ককে শায়েস্তা করতে দেশটির পণ্য ‘বয়কট’ ক্যাম্পেইন চলছে সৌদি আরবে।গত অক্টোবর থেকে তুর্কি পণ্য আমদানির ওপর ‘অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করেছে সৌদি সরকার। দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক রেষারেষির জেরে বাণিজ্যে এমন কুপ্রভাব পড়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার খবর উভয় দেশের গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়।ব্রিটেনের ফাইনান্সিয়াল টাইমস বলছে, তুরস্ককে শায়েস্তা করতে অর্থনৈতিকভাবে চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে সৌদি আরব। এর অংশ হিসেবে তুর্কি পণ্যের জনপ্রিয় বাজার বন্ধ করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, এটা এখন একেবারেই পরিষ্কার।তারপরও নানা কারণে এ সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না সৌদি শাসকরা। সে কারণে এটিকে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিষয়টি পরে স্বীকার করতে পারে, আবার নাও করতে পারে সৌদি আরব।এদিকে, সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় মদদে তুর্কি পণ্য বয়কটের প্রচারণা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও। বলা হচ্ছে, গত সপ্তাহে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এমন প্রচারে সৌদি সরকারের হাত রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় প্রচারণাটি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।সৌদি খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (এসএফডিএ) সব ধরনের তুর্কি মাংস, মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি স্থগিত করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তুরস্কের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করে।বিবিসি জানায়, সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তুরস্ক ও সৌদির মধ্যকার পণ্য প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এরপর থেকেই ‘তুরস্ক বয়কট’ ক্যাম্পেইনের প্রকাশ্য নেতৃত্ব দিচ্ছে রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স। সৌদির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সমিতি হিসেবে পরিচিত এটি।এ সমিতির প্রধান আজলান আল-আজলান চলতি বছরের গত অক্টোবরের মাঝামাঝি একটি বিবৃতি জারি করেন। তাতে ‘সৌদি নেতৃত্ব, দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে বৈরী আচরণের’ জন্য সব ধরনের তুর্কি পণ্য বর্জনের ডাক দেন তিনি।এরপর সৌদি চেইন সুপার শপগুলো একে একে বিবৃতি দিয়ে জানাতে থাকে, তুর্কি পণ্যের যে মজুদ রয়েছে, তা শেষ হওয়ার পর আর আমদানি করা হবে না, বিক্রিও করা হবে না। সৌদি দোকানগুলোতেও তুর্কি পণ্য বর্জনের আহ্বান সম্বলিত বড় বড় হোর্ডিং টানানো হয়েছে। মাসখানেক ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ‘বয়কট-টার্কিশ প্রোডাক্টস’ হ্যাশটাগ চালু করা হয়েছে, তা ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক প্রচারণাও চলছে।অবশ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশ দুটির ব্যবসায়ীরা ধারণা করছিলেন যে, সৌদি আরব অনানুষ্ঠানিকভাবে তুর্কি পণ্য বর্জন করা শুরু করেছে। যা সাম্প্রতিক সময়ে এসে প্রবল আকার ধারণ করে।গত জুলাই মাসে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছিল, তুরস্ক থেকে তাজা ফলমূল এবং শাকসবজি বহন করা ট্রাকগুলোকে সীমান্তে আটকে দেয়া হচ্ছে। এগুলো পার হতে বাধা দিচ্ছে সৌদি আরব।সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছিলেন, আরব উপ-সাগরের কিছু দেশ তুরস্ককে টার্গেট করেছে। তারা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার নীতি অনুসরণ করছে। অবশ্য এটা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না, যে দেশগুলোকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, গতকালও যার অস্তিত্ব ছিল না, সম্ভবত আগামীকালও থাকবে না। তবে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তুর্কি পতাকা চিরতরে উড়তে থাকবে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 54 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*