Home » বরিশাল » চরম খরায়ও মানবিক সাহায্য নিয়ে মাুনষের পাশে থাকতে চাই : পুলিশ কমিশনার

চরম খরায়ও মানবিক সাহায্য নিয়ে মাুনষের পাশে থাকতে চাই : পুলিশ কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন- সেবা দানে, জনগণের দোরগোড়ায় আমাদের পৌঁছানো সক্ষমতা পরীক্ষিত, মহামারির চরম খড়ায়ও মানবিক সাহায্য নিয়ে মাুনষের পাশে থাকতে চাই। আমাদের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সক্ষমতা মাথায় রেখে বৈশ্বিক মহামারিতে নিয়মিত কর্তব্যের পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তা মাস্ক বিতরণ সহ নানাবিধ মানবিক সাহায্য নিয়ে যেভাবে দাঁড়িয়েছি, বিশেষ করে ২৪ ঘন্টা শ্বাসকষ্ট রোগীর প্রাথমিক স্টেজে অক্সিজেন সেবা সরবরাহ সেন্টার চালু রেখেছি, ইতোমধ্যে তা জনমনে ব্যাপক সারা দিয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রেখে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে যে-কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় পুলিশ লাইন্সে মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ কমিশনার কল্যাণ সভার শুরুতেই সকল পুলিশ সদস্যদের বিবিধ কল্যাণে বিগত মাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও চলতি মাসের বিভিন্ন সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের কল্যানমূলক সিধান্ত গ্রহণ করেন।

এসময় তিনি গরমে কর্তব্যরত অবস্থায় মারাত্মকভাবে পানিশূন্যতায় হিট স্ট্রোক না হয় সে মর্মে পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান সহ সুষম খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, আবাসনসহ নানান ধরনের কল্যাণ সাধন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পুলিশের আচার-আচরণ, শৃঙ্খলা, ড্রেসরুল সহ নানাবিধ বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের সুদূরপ্রসারী সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সারাবাংলাদেশে চলমান বিট পুলিশিং পরীক্ষিতভাবে জনগণের জন্য যেমন সুফল বয়ে এনেছে, তেমনি আমাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।এই বিট পুলিশিংয়ে যেন কোন প্রকার ভাটা না পরে। তাই প্রো-একটিভ পুলিশিং এর অংশ হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে অপরাধ দানাবাঁধার আগেই সমূলে নির্মূল করতে হবে।

আমরা ইউনিফর্মধারী প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য। প্রতিমাসে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যেমন পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করে থাকি, তেমনি অনৈতিক, অপেশাদার, গর্হিত কাজে জড়ালে কঠোর বিভাগীয় ভর্ৎসনা রয়েছে।

প্রতিটি মহামারিতে দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা থাকে, সুতরাং বৈশ্বিক মহামারিতে অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য সামগ্রী সংকট, পুষ্টির চাহিদা মোকাবেলায় বসবাসের আশপাশের খালি জমি বা জায়গায় বেশি বেশি দৃষ্টিনন্দন শাকসবজি, ফলমূল, মাছ চাষের আওতায় আনতে হবে। মহামারি মোকাবেলায় নিজেদেরকে সুরক্ষিত রেখে করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউ সফলভাবে মোকাবেলায় পেশাদারিত্ব ছাপিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পুলিশিং তুলে ধরতে হবে।এভাবে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রেখে জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে পারলে আমাদের অর্থনীতির চাকা সমুন্নত রেখে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারবো।

প্রযুক্তির ব্যবহারে জনগণের দোরগোড়ায় নির্ভেজাল সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা এই শহরে অপরাধ নিবারণের সহায়ক হিসেবে ভিডিও থেরাপি বা ফটো থেরাপী কল্পে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নিজস্ব ব্যবস্তাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং তা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল সেন্টার এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ ও মনিটরিং এর মাধ্যমে নগরীকে সুরক্ষিত রাখার এক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে আমাদের যেসকল প্রস্তুতি রয়েছে সেগুলো আরও ভালোভাবে সচেতনতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মধ্য দিয়ে মানবিক পুলিশ ইউনিট হিসেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে, বিএমপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় নির্ভেজাল সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেই ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম বলেন, করোনা নতুন উদ্যম নিয়ে আক্রমণ করছে। সেক্ষেত্রে কোনপ্রকার উপসর্গ পেলে গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। অধঃস্তনগণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলছে কি-না তা নিয়মিত তদারকি করতে সকল শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।

এসময় তিনি বিএমপি কর্তৃক করোনায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ সেবা কর্মসূচি গ্রহণে পুলিশ কমিশনারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অপারেশন এন্ড প্রসিকিউশন মোঃ এনামুল করীম বলেন, কর্তব্য পালনে পুলিশি সেবা পেশাদারিত্ব এবং আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন এবং যে-কোন পরিস্থিতি পর্যায়ক্রমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবগত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

উপ-পুলিশ কমিশনার (সাপ্লাই লজিস্টিকস) মোঃ জুলফিকার আলি হায়দার ফোর্সের খাবার মেসে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় ইফতার ও সেহরীতে ডিম, দুধ ও কলা সরবরাহের জন্য পুলিশ কমিশনারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারোর্ট থানা) মাসুদ রানার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মোঃ নজরুল হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ মোকতার হোসেন পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অপারেশন এন্ড প্রসিকিউশন) খাঁন মোহাম্মদ আবু নাসের, উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর (অতিঃ দায়িত্ব গোয়েন্দা বিভাগ) মোঃ মনজুর রহমান পিপিএম বার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পিএমটি এন্ড ফোর্স) ছোয়াইব, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মোঃ রেজাউল করিম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) রুনা লায়লা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অপারেশন এন্ড প্রসিকিউশন) মোঃ আকরামুল হাসান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ ফজলুল করীম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (নগর গোয়েন্দা) শেখ মোহাম্মদ সেলিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 41 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*