Home » জাতীয় » বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

বাংলার কন্ঠস্বর //দম ফেলার সময় নাই, বোরো ধান ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। বোরো ধানের ফলনও ভালো এবং দামও  ভালো। তাই কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি। সরেজমিনে গিয়ে এমনটাই দেখা গেছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হাওর পাড়ের এই চিত্র।

হাওরগুলোতে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান কাটা। কেউ কেউ নিজেরা আবার কেউ কেউ শ্রমিক দিয়ে হাওরের বোরো ধান কাটছেন। এছাড়াও আবার কেউ কেউ কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে হাওরের বোরো ধান কাটাচ্ছেন। এ যেন কৃষকদের সারা বছরের স্বপ্ন বুনা কষ্টে উপার্জিত বোরো ফসল ঘরে তোলার অন্যরকম এক আনন্দে। তাইতো বৈশাখের প্রখর তপ্ত দাবদাহের মধ্যেও বোরো ফসল ঘরে তোলার অন্যরকম এক আনন্দে মেতে আছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর ধানের ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক গুণ ভালো হয়েছে। এছাড়াও কৃষকেরা ধানের দামও পাচ্ছেন ভালো।

তবে বৈশাখী মৌসুমের শুরুতেই হিট শক (গরম বাতাস) ও শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাসের কারণে বোরো জমির ফসলের অনেক ক্ষতি হওয়ায় এ উপজেলার অনেক কৃষকেরই স্বপ্ন পুড়েছে। নীল আকাশের জমিনে ঘন কালো মেঘ ও ঝড়ো বাতাস বইতে দেখলেই এখানকার হাওর পাড়ের কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। শিলাবৃষ্টির আতঙ্ক যেন কিছুতেই কাটছে না তাদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা প্রশাসন এ উপজেলায় বোরো ধান কাটা উৎসবের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলায় হাওরে ২৩ হাজার ৫৩৪ হেক্টর যার শতকরা ৯৪% ও নন হাওরে ২ হাজার ৪৭২হেক্টর যার শতকরা ৩৭% বোরো জমির ধান কাটা হয়েছে। এ উপজেলায় মোট ২৬ হাজার ০৬ হেক্টর বোরো জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রতি কিয়া (৩২ শতক) জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ ধান। গত ৮ এপ্রিল মধ্যরাতে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে উপজেলার সেলবরষ, পাইকুরাটি, ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ হাজার ৫০০ হেক্টর বোরো জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া গরমে ক্ষতি হয়েছে ৪০ হেক্টর জমির ধান।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিক মিয়া প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এইবার ধানের ফলন ভালা হয়েছে ও দামও ভালো। গড়ে প্রতি কিয়ারে ২০ থেকে ২২ মণ কইরা ধান হয়েছে। তবে আকাশ মেঘলা থাকলে বা বৃষ্টি হইলেই বুকটা ধড়ফড় কইরা নাড়া মারে।

উপজেলার সসদর ইউনিয়নের বাহুটিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল খালেক বলেন, আমি ডারকার হাওরে ১০কিয়ার বোরো জমিতে ৫কিয়ার ২৮ ও ৫কিয়ার জমিতে ২৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ৫কিয়ার জমির ২৮ জাতের ধান শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ভাগালুকরা (ধান কাটার শ্রমিক) এই জমির ধান কাটতো না বলতেছে। কি যে বিপদে আছি কইতাম পারতাছিনা।

ধর্মপাশা উকিলপাড়া মোড়ে অস্থায়ী আড়তের পাইকারি মূল্যে ধান ক্রেতা মো. এখলাছ উদ্দিন ব্যাপারী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, প্রতি মণ কাঁচা ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও শুকনো ধান মণপ্রতি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধানের দাম যে কোনো সময় ওঠানামা করতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এখন পুরোদমে ধান কাটা চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগ-বালাইও কম হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুবই খুশি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ উপজেলায় আবাদকৃত সব বোরো জমির ধান কর্তন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। শিলাবৃষ্টিতে ও হিট শকে (গরম বাতাস) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ধর্মপাশা উপজেলাটি হাওরবেষ্টিত। এখানকার কৃষকরা প্রকৃতির নানা দূর্যোগ মোকাবেলা করে বোরো ফসল ফলায়। তারা বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এবার ধানের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়ায় কৃষকরা আনন্দিত। যে কোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কৃষকদের পাশে আছে এবং থাকবে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 61 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*