Home » বরিশাল » ভোলায় পুকুরের পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু: ৫ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত

ভোলায় পুকুরের পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু: ৫ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক // ভোলার পুকুরের পানিতে ডায়রিয়া জীবাণু (ই-কলআই) শনাক্ত হয়েছে। হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নমুনা পরীক্ষা করে এ জীবাণুর সন্ধান পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে ডায়রিয়ায় সোমবার (২৬ এপ্রিল) ভোলা সদরের ইলিশা এলাকায় জয়নাল বেপারি নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ডায়রিয়া মোকাবিলায় জেলায় ৭৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে, বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম।

সিভিল সার্জন জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম ডায়রিয়া আক্রান্ত এক ব্যক্তির বাড়ির পুকুরের পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠায়। সেখান থেকে তিন দিন আগে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে ওই পুকুরের পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু পাওয়া গেছে।

এদিকে জেলায় প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। শয্যা সংকটে রোগীদের বাধ্য হয়েই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে জেলায় আরও ৩২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৪ জন। এছাড়া গত এক সপ্তাহে পুরো জেলায় ২ হাজার ৪৭৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যদিকে এক মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৮৯ জনে।

এক সপ্তাহে আক্রান্তদের মধ্যে ভোলা সদর হাসপাতালে ৯৩৩ জন, দৌলতখানে ২৪১ জন, বোরহানউদ্দিনে ৩৭৬ জন, লালমোহনে ২৪২ জন, চরফ্যাশনে ৩৯২ জন, তজুমদ্দিনে ১৫৭ জন ও মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৭ জন রয়েছে। সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার ১০ থেকে ১৫ গুণ ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

ভোলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড খালি না থাকায় মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। ডায়রিয়া আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে স্যালাইন সংকট। কোনও কোনও উপজেলায় আবার রোগীদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে স্যালাইন বিক্রি করায় লালমোহনে দুই জনের জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা জানান, ডায়রিয়ার প্রকোপ অনেক বেড়ে গেছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জাকিনুর বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘ভোলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ জন বা তার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি পর্যাপ্ত সেবা দিতে।’

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ডায়রিয়া মোকাবিলায় আমরা মেডিক্যাল টিম গঠন করেছি। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। যে পরিমাণ স্যালাইন রয়েছে তা দিয়ে আরও ১০ দিন চালানো সম্ভব। আমাদের ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের সর্বাত্মক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 47 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*