Home » আন্তজাতিক » বিমান হামলায় ৫২,০০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

বিমান হামলায় ৫২,০০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

বাংলার কন্ঠস্বর // ইসরায়েলের বিমান হামলায় ফিলিস্তিনে ৪৫২টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এতে ৫২ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো–অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) এ তথ্য জানিয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৪৭ হাজার মানুষ জাতিসংঘ পরিচালিত ৫৮টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো–অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) মুখপাত্র ইয়েন্স লেয়ার্কে বলেন, গাজায় জাতিসংঘের পরিচালিত স্কুল রয়েছে ৫৮টি। এতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি।

ইয়েন্স লেয়ার্কে বলেন, ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১৩২টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া ৩১৬টি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি হাসপাতাল ও নয়টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র রয়েছে। এই হামলার কারণে সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন প্রায় আড়াই লাখ গাজাবাসী।

তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১৩২টি ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ৩১৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি হাসপাতাল ও ৯টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে।

তাছাড়া, একটি নির্লবণীকরণ প্ল্যান্ট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সুপেয় পানির সঙ্কটে পড়েছে প্রায় আড়াই লাখ গাজাবাসী। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক ত্রাণ সংস্থা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদেরকে খাবার ও অন্যান্য সাহায্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান লেয়ার্কে।

সেখানকার পরিস্থিতির বর্ণনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাস্ত্যুচুত ফিলিস্তিনিরা স্কুলগুলোতে গাদাগাদি করে থাকার কারণে কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে আছে।

ওদিকে, ইসরায়েলের বিমান হামলা নিয়ে আলাদা এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ফিলিস্তিনের আবাসিক এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের বিমান হামলা যুদ্ধাপরাধের সামিল। যদিও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলে আসছে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে, যাতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা এড়ানো যায়। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াই এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। লড়াই বন্ধে আন্তর্জাতিক আহ্বানেও আশু যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবমতে, ১০ মে ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে ৬৩ শিশুসহ ২১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৪০০’রও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত সপ্তাহে লড়াইয়ে দুইপক্ষকে মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু গাজার আবাসিক এলাকায় আগাম কোনও সতর্কবার্তা না দিয়েই ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালিয়েছে তার তদন্ত দাবি করেছে অ্যামনেস্টি।

সংগঠনটি জানায়, গাজায় ইসরায়েলের এমন ৪ টি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে তা তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, গাজায় গত ১১ মে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ২ টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে ৩০ জন নিহত হয়েছে। তাদের ১১ জনই ছিল শিশু। ১৪ মে তে আরেকটি তিন তলা ভবনে বিমান হামলায় এক মা ও শিশু নিহত হয়। ১৫ মে তেও বিনা সতর্কবার্তায় আরেকটি বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েল।

তবে ইসরায়েল এইসব হামলার ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 30 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*