Home » সর্বশেষ সংবাদ » মধুমতিতে লবনাক্ত পানির কারণে চাষাবাদ ব্যাহত

মধুমতিতে লবনাক্ত পানির কারণে চাষাবাদ ব্যাহত

বাংলার কন্ঠস্বর // গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রবাহমান মধুমতি নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বেড়েছে। এই লবণ বাতাস আর পানিতে মিশে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। নদীর নোনাপানি সমগ্র উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে প্রাণীকুলের জীবনচক্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া, আমাশয় সহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্তদের রোগীদের ভিড়।

টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুলের উদ্যেগে ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পৌর এলাকায় ১৬ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ করা হচ্ছে। বাকি ৫ টি ইউনিয়নের জনগণ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। এতে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। এছাড়া লবণাক্ত পানির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে উপজেলার কৃষকেরা। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বেড়ে যায়। এসময় তারা নদী বা খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না। লবণাক্ত পানি ক্ষেতে দিলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফসল কমে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।

লেবুতলা গ্রামের কৃষক রবিন বিশ্বাস, কুশলী গ্রামের মিনি বেগম, গোপালপুর গ্রামের অরুন বিশ্বাস বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এই মধুমতি নদীর লবণাক্ত পানি জমিতে ব্যবহার করলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফসলের উৎপাদন কমে যায়।   তাছাড়া কৃষিকাজে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এই সময়টা আমরা কৃষকেরা খুবই অসুবিধায় থাকি। পুকুর থেকে পাম্পের মাধ্যমে ক্ষেতে পানি দিলেও যেটুকু দরকার সেটুকু দিতে পারছি না। এ ছাড়া সুপেয় পানির সংকটে আমাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এ পানি পান করে আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন বলেন, সাধারণত নদীতে লবণ-পানি তিন মাস থাকে। বর্ষাকালে লবণের পরিমাণ কমতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে লবণের পরিমাণ বেশি থাকায় ফলন কম হয়। এছাড়া লবণ পানি ব্যবহার করলে জমি লবণাক্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের নদীর পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, লবণাক্ত পানির কারণে নানা রকম রোগের উপদ্রব হচ্ছে। এই পানি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আমরা এই পানি পান থেকে বিরত থাকতে বলছি। এ অবস্থায় আমরা গভীর নলকূপ অথবা পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিচ্ছি।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 50 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*