Home » সর্বশেষ সংবাদ » ‘মোগো ত্রাণ লাগবে না, বেড়িবাঁধ দেন’

‘মোগো ত্রাণ লাগবে না, বেড়িবাঁধ দেন’

বাংলার কন্ঠস্বর // প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোড় আকুতি করছি, আমরা ত্রাণ চাই না, একটি টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে বসতঘর হারিয়ে মনের ক্ষোভ নিয়ে এমনটাই জানালেন জেলে গাবরিয়েল সরদার। এছাড়া সহায় সম্বল হারিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত কাটানো সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা উপজেলার শত শত অসহায় পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা সংবাদকর্মীদের কাছে দু’হাত জোড় করে এমন দাবি জানান। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস কেড়ে নিয়েছে তাদের শেষ সম্বলটুকু। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তৎক্ষণিক খাবার আর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে । সরকারি সহায়তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও।

মোংলা বন্দর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে চিলা ইউনিয়নের শেষ সীমানা থেকেই শুরু বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোফ ফরেস্ট সুন্দরবন। পশুর ও শ্যালা নদী সংলগ্ন মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা, কানাইনগর, চিলা ও জয়মনির ঘোলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার লোকের বসবাস। এর মধ্যে অধিকাংশ বসবাসকারী জেলে ও দিনমজুর। তাদের জীবন চলে অন্যের গাঁ খাটুনি আর সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ শিকার করে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর নদীর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জেলে ও স্থানীয়দের দুর্দশার সীমা নেই। এবারের ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বড় ধরনের জীবনের ক্ষতি না হলেও নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে শেষ হয়েছে অনেকের আশ্রয় নেয়ার সম্বলটুকুও। ভেসে যায় তাদের ঘরের নিচের মাটি ও ঘের-পুকুরের মাছসহ সহায় সম্বল সব কিছু। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চর আর করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের। এভারের ঘূর্ণিঝড়ে মোংলা উপজেলায় ৩শ হেক্টর চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে মৎস্য চাষিদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। জোয়ারে তলিয়েছে উপকূলীয় এলাকার ৫শ ১০টি বসত ঘল আর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাড়ে ৬শ বসবাসকারী। তরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা আর পুনর্বাসন ব্যবস্থা করবে সরকার বলে জানায় উপজেলা নির্বাহী কমলেশ মজুমদার।

ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়রা জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের সময় নদী ভাঙনের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় উপকুলবাসীর। যখন থেকে খবর পেয়েছি আম্পানের এক বছর পর আবারো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আসছে, আজ তিন দিন থেকেই ঘরে বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে তাদের কাছে বসে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। কত মানুষ আসে, প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্ত টেকসই বাঁধ দেয় না। জীবন বাঁচাতে সব সময়ই আতঙ্কে থাকতে হয় আমাদের। কখন যেন ভাসিয়ে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজনসহ আমাদের সহায় সম্বলটুকু।

চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোল্লা মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় যশের প্রভাবে এ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তলিয়ে গেছে পুকুর ও মৎস্য ঘের। তাই সরকারের কাছে অবেদন, ত্রাণ সহায়তা না দিয়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ দিলে অন্তত মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। জীবনই যদি না থাকে তা হলে ত্রাণ দিয়েই বা কী হবে? বলে জানালেন স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় যশ আঘাত হানার কথা শুনেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী, সমাজ সেবক মোঃ হাসেম ফকির, সুলতার মেম্বার, সিপিপি উপজেলা টিমলিডার ও স্বেচ্ছাসেবক সহ এলাকার অন্যান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নদী সংলগ্ন বুড়িরডাঙ্গা, জয়মনি, চিলা, কাইনমারী ও কানাইনগর এলাকা সরেজমিনে যাই এবং লোকজনকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। তার পরেও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হওয়ায় বেশ কিছু বাড়িঘর তলিয়ে যায় এবং পানিবন্দি লোকজনকে দ্রুত শুকনো খাবার ও গৃহহীন মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও দ্রুত মোংলা উপজেলাবাসীর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য বলে জানায় এ কর্মকর্তা।

সিডর, আয়লা, আম্পান আর যশের মতো ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পেতে তিনটি ইউনিয়নের ৪৫ হাজার অসহায় মানুষের একটাই কথা, ত্রাণ চাই না, পশুর, শ্যালা ও মোংলা নদী পাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা উপকূলবাসীর।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 39 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*