Home » অপরাধ » বরিশাল লঞ্চঘাট টু পোর্টরোড কিশোর গ্যাংগ্রুপের উৎপাত

বরিশাল লঞ্চঘাট টু পোর্টরোড কিশোর গ্যাংগ্রুপের উৎপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক // সারা দেশে এখন একটি আতঙ্কের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। এই গ্যাংগ্রুপের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত গোটা বিশ্বব্যাপি। সম্প্রতি গ্যাংগ্রুপের সদস্য পার্শ্ববর্তী দেশে প্রবেশ করে একটি নরকীয় ঘটনার মধ্যদিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভারতের একটি প্রদেশে একটি তরুণীকে কৌশলে নিয়ে ধর্ষণ করে তা লাইভ করায় দেশটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হতবাক করে। যদিও এর সাথে জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় রাজধানী ঢাকায় কিশোর সন্ত্রাসীদের কিছুটা দমন করা গেলে বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক বরিশালে ক্রমাশই ডালপালা গজিয়ে যাচ্ছে। এতদিন সদর রোড, বগুড়া রোড়, কালিবাড়ি, বরিশাল কলেজ এলাকায় তাদের উৎপাত থাকলেও প্রসারিত হয়ে এখন এগিয়েছে বাণিজ্যিক এলাকায় চকবাজারসহ আশপাশ এলাকাসমূহে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকবাজারে কিশোরে গ্যাংগ্রুপের উৎপাত বা মাস্তনি কিছুটা কম থাকলেও লঞ্চঘাট থেকে পোর্টরোড পর্যন্ত তাদের সন্ত্রাসী কান্ডে এক ভীতিকর অস্থিরতা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তোলাবাজি করাসহ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা এই এলাকায় নৈমত্তিক ঘটছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে একাধিক ব্যবসায়ী তাদের হাতে নাহেজাল হয়েছেন। ফলে ভয়ে এখন আর কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, লঞ্চঘাট টু পোর্টরোড ব্রিজ পর্যন্ত এই এলাকায় অন্তত তিনটির বেশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ রয়েছে, যাদের বাসাবাড়ি পোর্টরোড লাগোয়া। এরা সকাল থেকে রাত অবধি আবাসিক হোটেলগুলোকে টার্গেট করে সামনে অবস্থান নিয়ে থাকে। হোটেলগুলো কে বা কারা আসে এবং তাদের কীভাবে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া যায় এমন ধান্দায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আবার কখনও কখনও হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে গোপন চুক্তি করেও লোকজনকে ফাঁদে ফেলার কথা শোনা যায়।

সূত্রগুলো জানায়, তিনটির মধ্যে একটি গ্যাং আছে, যাদের গ্রুপের সংখ্যা হয়তো ৫/৭ জন হবে, এরা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন একটা নিধারিত হারে অর্থ উত্তোলন করে রাজনৈতিক পরিচয়ে। এছাড়া এই গ্রুপটি মাঝে মধ্যে আবাসিক হোটেলগুলোতে হানা দিয়ে নারীদের উপস্থিতি দেখলে পতিতা ব্যবসার অভিযোগ তুলে স্টাফ-কর্মচারীদের জিম্মি করে এবং মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করে।

স্থানীয় এক হোটেল মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের হোটেলে গত সপ্তাহে এক ব্যক্তি স্ত্রীকে নিয়ে উঠলে একটি গ্রুপ এসে হানা দেয় এবং নিজেদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তান্ডব চালায়। এবং হোটেলে দেহব্যবসা হচ্ছে অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। শেষমেষ ইজ্জত রক্ষার্থে তাদেরকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংগ্রুপের বিরুদ্ধে থানা পুলিশে অভিযোগ করলে বিপদ আরও বাড়ে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই কয়েক দফা হামলার শিকার হতে হয়। ফলে ভয়েও তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখায় না।

তবে কিশোর গ্যাংগ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ফের আলোচনায় আসায় এবার বরিশালের পোর্টরোডে ব্যবাসায়ীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বাণিজ্যিক এলাকায় কিশোর গ্যাং রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যদিও র‌্যাবপ্রধান গতকালই ঘোষণা দিয়েছেন, দেশে কিশোর গ্যাংগ্রুপের কোনো অস্থিত্ব থাকবে না। ফলে বরিশালে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধেও যে অভিযান শুরু হবে এটা অনুমান করা অমুলক নয়। তবে এই বিষয়ে বরিশাল র‌্যাবপ্রধানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলছেন, কিশোর সন্ত্রাস রোধে তারা ইতিপূর্বে কাজ করেছেন। গত বছরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন। তাদের এই ধারাবাহিতা অব্যাহত আছে। এবং মাঠপুলিশকে নির্দেশনাও দেওয়া রয়েছে।

অবশ্য সৎ ও স্বচ্ছ মানসিকতার এই পুলিশ কর্মকর্তা বক্তব্যের সাথে কাজের বেশ মিলও পাওয়া যায়। তিনি গত বছর সদর রোড কেন্দ্রীয় আব্বাগ্রুপের অন্তত ১০ সদস্যকে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। তাদের উৎপাত এখন চোখে পড়েনা বললেই চলে। ফলে এবারও ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তা লঞ্চঘাট টু পোর্টরোড পর্যন্ত কিশোর সন্ত্রাসীদের আনাগোনা রোধে বিশেষ ভুমিকা রাখবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।’

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 27 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*