Home » লাইফ স্টাইল » কলেজছাত্রীর মৃত্যু: প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ব্যাপক তৎপরতা

কলেজছাত্রীর মৃত্যু: প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ব্যাপক তৎপরতা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক // বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বান্ধবী কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমসহ বসুন্ধরা গ্রুপের তল্পিবাহক দুই-তিনটি গণমাধ্যম উদ্ভট সব খবর প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে এসব গণমাধ্যম তথ্যপ্রমাণ ছাড়া নানা কল্পকাহিনী তৈরি করে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করছে। এমনটি অভিযোগ করছেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুনিয়ার মৃত্যু রহস্য অনেকটা পরিষ্কার। মরদেহ উদ্ধারের সময় পাওয়া বিভিন্ন আলামতই প্রমাণ করে ফ্ল্যাটে একমাত্র বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতই ছিল এবং তিনিই ঢাকায় মুনিয়ার একমাত্র অভিভাবক ছিলেন। বিবাহের প্রলোভন, বিদেশে বিয়ে করে স্থায়ী হওয়া এবং ঢাকায় অভিজাত ফ্ল্যাট কিনে দেয়ার লোভে ফেলে দীর্ঘদিন মুনিয়াকে ব্যবহার করেছেন আনভীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট-প্লট, বিদেশে গিয়ে ঘরসংসার করা কিছুই কপালে জুটেনি মুনিয়ার। ফলে দীর্ঘদিন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্রমতে, তদন্ত খুবই সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছেন। নজরে রাখা হয়েছে মামলার একমাত্র আসামি আনভীরকেও।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, হত্যা-আত্মহত্যা যেটাই হোক, এই মামলায় আসামির অপরাধ বহুমুখী। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ভিসেরা রিপোর্টে আত্মহত্যা প্রমাণ হলে একরকম, আর হত্যা প্রমাণ হলে অন্যরকম। আত্মহত্যা হলে মৃত্যুর আগে ও পরের ঘটনাসমূহ এবং দীর্ঘদিন নিজ হেফাজতে রেখে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে তদন্তে।

আর অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়বে, এমনকি আরো অনেকেই জড়িয়ে যেতে পারেন ঘটনার সঙ্গে। মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের পরিচয় থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস এবং মৃত্যু পর্যন্ত আনভীরের সাহায্যকারী আরো অনেকেই ফাঁসবেন।

আলাপকালে একজন অপরাধ বিশেষজ্ঞ সাংবাদিকদের বলেন, অধৈর্য না হয়ে তদন্তকার্যে সহযোগিতা ও তদারকি রাখতে হবে। অপরাধীদের বাঁচার চেষ্টা থাকবেই। আর প্রভাবশালী হলে তো কথাই নেই। তবে মুনিয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সেক্ষেত্রে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা সফল হবে না। তিনি বলেন, যেসব মিডিয়া বসুন্ধরার এমডিকে বাঁচাতে আদাজল খেয়ে উদ্ভট কল্পকাহিনী প্রকাশ করছে। তারা পাঠকের কাছে নিজেদের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা ধ্বংস করে দিচ্ছে।

এদিকে প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়াসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এর নেতৃবৃন্দ। এখন পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেফতার না করায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, সবকিছু পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।

তানিয়া বলেন, মুনিয়ার ঘটনায় ফেঁসে যাওয়া প্রতারক প্রেমিক আনভীর মামলা তুলতে বিভিন্ন মাধ্যমে আর্থিক প্রলোভনের পাশাপাশি নানা চাপ দিচ্ছে। বানোয়াট কাহিনী জনগণকে খাওয়ানো অপচেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আমার চরিত্রহনন ও কুৎসা রটাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ফেক আইডি, পেজ ও অজ্ঞাত অনলাইনের মাধ্যমে সেগুলো অসৎ উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। মুনিয়া হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে ও ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এগুলো করা হচ্ছে বলে সহজেই অনুমেয়।

এদিক মুনিয়ার অপমৃত্যুর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গুলশান থানা পুলিশের ওসি মো. আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এখনও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। চাঞ্চল্যকর মামলাটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। ছোট-বড় প্রত্যেকটি বিষয় আমলে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে নিশ্চিত হলে জড়িত অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*