Home » বরিশাল » ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না করোনার জটিল রোগী

ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না করোনার জটিল রোগী

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক // পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না জনসাধারণ। জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নেই প্রশাসন থেকে। জটিল রোগী ভর্তি করা হয় না ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে। জটিল এবং মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে রেফার করা হয় বরিশাল ও ঢাকায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে এ সব জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিএইচও ডাক্তার ননীগোপাল। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রোগীকে বরিশাল কিনবা ঢাকায় রেফার করি না। রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা রোগীকে বাঁচানোর জন্য তাড়াহুড়া করে বরিশাল কিংবা ঢাকায় নিয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতলে জনবলের অভাব রয়েছে। এখানে ডাক্তারের পদ আছে ১৭ জনের। ডাক্তার আছে মাত্র ৭ জন। এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজি, নার্স আয়া এবং ঝাড়ুদার সুইপারের অভাব রয়েছে। ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন

ননী গোপাল জানান, করোনা রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে একটু কম মনে হচ্ছে। আগে ছিল শতকরা ৫০ ভাগ। এখন ৪০ কখনো ৫০ শতাংশ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে ১২শ ডোজ ভ্যাকসিন মজুদ আছে। তার মতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে করোণা ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তার অভিযোগ জনগণ মুখে মাক্স পরতে চায় না।

স্থানীয় সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান ১৫ হাজার শ্রমজীবী মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে। চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম করোনা রোগীর জন্য ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করে আসছেন।
বিজ্ঞাপন

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সীমা রানী ধর সারাবাংলাকে জানান, রোগ বেড়েছে এ কথা সত্য। এই রোগ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণও রয়েছে। কিছুদিন আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরই হঠাৎ করে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য উপজেলা পরিষদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দের কে নিয়ে জনসচেতনতা বুদ্ধির কাজ চলছে। পাড়ায়-মহল্লায় সব জায়গায় জনসচেতনতার জন্য চেষ্টা চলছে। সম্প্রীতি জনসচেতনতা বেড়েছে। জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদের সংখ্যা খুবই কম।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি লকডাউন শিথিল হওয়ার কারণে জনগণের আনাগোনা বেড়েছে। এতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা জনগণকে সচেতন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।’

হাসপাতালে কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা অনেকটাই ভালো। একটি উপজেলা চিকিৎসা ব্যবস্থা জন্য সরঞ্জামাদি থাকা উচিত তা এখানে অনেকটাই রয়েছে। তবে ডাক্তারসহ অন্যান্য পদে জনবল কম রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মুমূর্ষু রোগীকে বরিশাল এবং ঢাকায় রেফার করা হয় কিনা তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। তবে এখানে চিকিৎসার জন্য এমন কিছু সরঞ্জামাদি নেই যা মুমূর্ষু রোগীর জন্য প্রয়োজন। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইসব রোগীকে রেফার করা হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত রোগীর আর্থিক সামর্থ্য নেই তাদের যেন সঠিক চিকিৎসা হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

করোনার কারণে ভাণ্ডারিয়ায় ৮০ ভাগ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ সব ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান কিংবা ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা রাণী ধর বলেন, ‘সরকারিভাবে এবং স্থানীয় এমপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তারা সরঞ্জামাদি দিয়েছেন। প্রয়োজনে হয়ত আরও ত্রাণসামগ্রী দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*