আল-ওবেইদ গাজার অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার ছিলেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০টির বেশি গোল করেছেন এবং ফিলিস্তিন জাতীয় দলের হয়ে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে তার প্রথম গোল আসে ২০১০ সালের ওয়েস্ট এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়েমেনের বিপক্ষে। এরপর তিনি ২০১২ সালের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ বাছাইপর্ব এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও খেলেছেন।
পিএফএ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আল-ওবেইদ ১০০টির বেশি গোল করেছেন, যা তাকে ফিলিস্তিনি ফুটবলের উজ্জ্বলতম তারকাদের একজন করে তুলেছে।’
আল-ওবেইদ ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পরপর তিন মৌসুম গাজা স্ট্রিপ প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।
চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হওয়া এটি জাতীয় দলের তৃতীয় খেলোয়াড়ের মৃত্যু। এর আগে জানুয়ারি ও মার্চ ২০২৪-এ যথাক্রমে মুইন আল-মাঘরিবি ও মোহাম্মদ বারাকাত নিহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-ওবেইদকে স্মরণ করা হয়েছে একজন স্বামী, পাঁচ সন্তানের জনক এবং “মাঠ ও মাঠের বাইরের নায়ক” হিসেবে।
ফিলিস্তিনি ক্রীড়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা আরও বাড়ছে। ফিলিস্তিন অলিম্পিক কমিটি (পিওসি) জানায়, শুধু জুলাই ২০২৫ মাসেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন ক্রীড়াবিদ ও কোচ নিহত হয়েছেন। জুলাই ২৯ তারিখে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, ওই মাসে মোট ৪০ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন।
পিওসি আরও বলেছে, ‘প্রতিদিন ফিলিস্তিনি ক্রীড়ার ট্র্যাজেডির নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে। এই ক্রীড়াবিদদের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা হচ্ছে না, তারা নিহত হচ্ছেন যখন তারা তাদের সন্তানদের পেছনে দৌড়াচ্ছেন কিংবা পানি বা ওষুধ খুঁজছেন। এই ক্ষুধার যুদ্ধ এখন ক্রীড়াবিদদেরও তাড়া করছে, যেমনটা করছে চিকিৎসক ও সাধারণ নাগরিকদের।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৫১,০০০-এর বেশি আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।