1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
বরিশালে বালুখেকোদের আতঙ্ক এসিল্যান্ড আজহারুল ইসলাম - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

বরিশালে বালুখেকোদের আতঙ্ক এসিল্যান্ড আজহারুল ইসলাম

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৪ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল।।

বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে প্রশাসন। একের পর এক অভিযান, ড্রেজার আটক, জরিমানা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত চক্রের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েকদিন পরে বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন আজহারুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি-সংক্রান্ত অনিয়ম, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং বিশেষ করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন তিনি। এরপর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কীর্তনখোলা নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে থাকেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর কীর্তনখোলা নদীসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই ও দপদপিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেন আজহারুল ইসলাম। এসব অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একাধিক ড্রেজার আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত এসব অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত চক্রের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল একটি চক্র। দিনের পাশাপাশি অনেক সময় রাতের আঁধারেও চলত বালু কাটার কার্যক্রম। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, নদীর তীর ও আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

চরমোনাই এলাকার এক সচেতন নাগরিক বলেন, “কীর্তনখোলা নদী আমাদের এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কাটার কারণে নদীর পাড় নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হতো। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। যারা অবৈধভাবে বালু কাটে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

দপদপিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার আরেক সচেতন নাগরিক বলেন, “একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ড্রেজার আটক ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা দরকার।”

আরেক সচেতন নাগরিক বলেন, “শুধু জরিমানা করলেই হবে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ অভিযান নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ফলে নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও সুরক্ষিত হচ্ছে। অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়াকে তারা প্রশাসনের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে ড্রেজার আটক, জরিমানা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় বালু উত্তোলনকারী চক্রের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে অভিযান শেষ হওয়ার পর অনেক সময় আবারও একই এলাকায় বালু উত্তোলন শুরু হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।

বরিশালের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, কীর্তনখোলা নদী রক্ষায় এ অভিযান আরও জোরদার ও নিয়মিত করা প্রয়োজন। নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা, ড্রেজার আটক, জরিমানা আদায় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী এ তৎপরতা অব্যাহত থাকলে কীর্তনখোলা নদী, নদীতীরবর্তী জনপদ, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews