
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা এলাকার সোনালী পোল সংলগ্ন স্থানে বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই ট্রলির ধাক্কায় একটি টাইলসবোঝাই অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ধাক্কার তীব্রতায় অটোরিকশাটি একপাশ চ্যাপ্টা হয়ে চালক মিলন ভেতরে আটকা পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা সাবল দিয়ে অটোটি সোজা করে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক মিলন গাজী (২৫) নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কেডিসি এলাকার বাসিন্দা হায়দার গাজীর ছেলে। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, অটোরিকশাচালক মিলন বরিশাল নগরী থেকে টাইলস বোঝাই করে দুজন যাত্রী নিয়ে চরমোনাইর দিকে যাচ্ছিলেন। সদর উপজেলার সোনালী পোল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই ট্রলিটি সজোরে অটোরিকশার সামনে আঘাত করে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। চালক মিলন অটোর ভেতরে আটকা পড়েন ।
এদিকে দুর্ঘটনার বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা সাবল দিয়ে অটোটি সোজা করে রক্তাক্ত মিলনকে বাইরে বের করে আনেন। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রলির চালক স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ওই ট্রলিটি সততা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের। যার চালকের নাম রাসেল।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত মিলনসহ আহত দুজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন মিলনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষের ফলে তার মাথার ত্বক ও খুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২৫টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া মারাত্মক আঘাতে তার হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের হাড় ভেঙে সম্পূর্ণ দুভাগ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাঈল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ট্রলি ও অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। পলাতক ট্রলি ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।