
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গত পাঁচ দিনে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পৃথক ঘটনায় ৩ জন খুন এবং অন্তত ১৫ জনের অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে কিশোর, জেলে, নারী, শিশু ও মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। অধিকাংশ অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনা, নৌকাডুবি ও পানিতে ডুবে।
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে ২৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত এই পাঁচ দিনে ঘটনাগুলো ঘটেছে।
সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়। উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে তাজুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরকে বিয়েবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাজুল ইসলাম ওই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, রোববার সকালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—আবদুর রশিদ (৪০) ও সাগর (৩০)। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে আবদুর রশিদকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে রোববার সকালে নেহালিয়া মাদরাসাসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন সাগরের লাশ তাঁর বাড়ির পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে বিভাগজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদারীপুরের শিবচরে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে বরিশালের বাসিন্দা আবুল কালাম (৬৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া গোপালগঞ্জের বেতগ্রাম এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা (৩৪) এবং ছেলে আরমান (১০)।
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফিরোজ হাওলাদার (৩৬), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮) ও শিশুকন্যা জান্নাত (১০)। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।Maps