
সন্তানের কল্যাণ ও সঠিক পথে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার গুরুত্ব অনেক। পবিত্র কোরআনে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর এমন একটি দোয়ার কথা এসেছে, যেখানে তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, তার সন্তান ও বংশধরদের জন্যও নামাজ কায়েমের তাওফিক চেয়েছেন।
দোয়াটি হলো-
رَبِّ اجْعَلْنِیْ مُقِیْمَ الصَّلٰوةِ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ، رَبَّنَا وَ تَقَبَّلْ دُعَآءِ
উচ্চারণ: রাব্বিজ আলনি মুকিমাস-সালাতি ওয়া মিন জুররিইয়্যাতি, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দুআ।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার প্রার্থনা কবুল করুন।’ সুরা ইবরাহীম, আয়াত ৪০
এই আয়াতের দোয়ায় সন্তানের জন্য একজন অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বের কথা ফুটে ওঠে। হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজের ইবাদতের পাশাপাশি তার পরবর্তী প্রজন্মও যেন আল্লাহর ইবাদতকারী হয়, সেই কামনা করেছেন।
বর্তমান সময়ে সন্তানদের লেখাপড়া, ক্যারিয়ার, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বাবা-মায়ের ব্যস্ততা অনেক। এসবের পাশাপাশি সন্তান আল্লাহর সঙ্গে কতটা সম্পর্ক গড়ে তুলছে, নামাজের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে কি না এবং নৈতিক মূল্যবোধে সে বেড়ে উঠছে কি না সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
শুধু মুখে উপদেশ দিলেই সন্তানকে দ্বীনের পথে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাবা-মায়ের নিজেদের আমল ও আচরণও সন্তানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই সন্তানকে নামাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিজেরাও নামাজ আদায় করা, ভালো আচরণের উদাহরণ তৈরি করা এবং নিয়মিত সন্তানের জন্য দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।
হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর এই দোয়া মুসলিম অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। সন্তান যেন শুধু দুনিয়ায় সফল হয় তা নয়, বরং ঈমান, আমল ও নৈতিকতার দিক থেকেও সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে আল্লাহর কাছে সেই কল্যাণও চাওয়া উচিত।