ঈদযাত্রার চিরচেনা ভিড় শুরু না হলেও, প্রস্তুতিতে কোনো কমতি নেই। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আসন্ন ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে মানুষ। আর সেই যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে বরিশালের বাস টার্মিনালে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মেকানিকরা।
শনিবার (৭ মার্চ) নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাট এালাকায় গিয়ে দেখা যায় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাসগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে চলছে ডেকোরেশন আর রঙের শেষ মুহূর্তের কাজ। বাসের মালিকরা বলছেন সড়কে ঈদ যাত্রা ত্রুটি মুক্ত রাখতে চলছে এই মেরামত।
কালাম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি শাহীন ইসলাম বলেন, ‘আগের দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। বর্তমানে ঈদের কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন ১৪/১৬ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে।’
জিয়া নামে আরেক পেইন্টিং মিস্ত্রি জানান, ‘ঈদের আগে সবাই একটু বাসগুলোতে টুকটাক মেরামত করায়। আর বিশেষ করে রংয়ের কাজগুলোতে নজর দেয়।’
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জানান, ‘ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাসগুলোর মেরামত করতে হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বরিশাল-ঢাকা রুটে প্রায় ১৫’শ বাস চলাচল করে। কারো যেন ভোগান্তি না হয় তাই ছোট ছোট কাজগুলোর সমস্যা খতিয়ে ঠিক করা হচ্ছে।’
শুধু সড়ক পথই নয়, নৌপথেও রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শুরু হয়েছে বরিশাল নদী বন্দরে পন্টুন মেরামত ও রংয়ের কাজ। লঞ্চের ফিটনেস তদারকির পাশাপাশি ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লঞ্চঘাটগুলোতে বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা।
বরিশাল নদী বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘দক্ষিণে নৌ-পথে বেশি মানুষ ঘরমুখো হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঢাকা-বরিশাল ছাড়াও অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটের লঞ্চগুলোর ফিটনেস তদারকি করা হচ্ছে। একই সাথে ড্রেজিং করে পন্টুন এলাকার বিস্তৃতি বাড়ানো হচ্ছে।’
তবে ঈদযাত্রার ব্যস্ততা এখনো না বাড়লেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজিসহ যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাতে চলাচল না করতে পারে সেক্ষত্রে আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তারা।
এবারে ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটিতে সড়ক ও নৌপথে ফিরবেন দক্ষিণের কয়েক লাখ মানুষ।