1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
কাজ না করেই ৪৪ কোটি টাকা আওয়ামী লীগ নেতার পকেটে - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

কাজ না করেই ৪৪ কোটি টাকা আওয়ামী লীগ নেতার পকেটে

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ 0 বার সংবাদি দেখেছে
60

বিগত সরকারের প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতার দাপটে পিরোজপুর-নাজিরপুর-বৈঠাকাটা ১৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ না করেই প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। সড়কের সিংহভাগ অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, যা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় এটি কোনো পাকা রাস্তা নয়, বরং গ্রামের অবহেলিত মেঠো পথ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ। নাজিরপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। এমনকি জেলার সবচেয়ে বড় ভাসমান সবজির বাজার ‘বৈঠাকাটা’ যাওয়ার একমাত্র পথও এটি। নিরুপায় হয়ে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। খানাখন্দের কারণে এখানে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল প্রশস্তকরণ প্রকল্পের’ আওতায় মেসার্স ইফতি ইটিসিএল প্রা. লি. নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৪টি প্যাকেজে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে রাস্তাটির সংস্কার কাজ পায়। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল।


অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বিগত সরকারের পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই ও ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কোনো কাজ না করেই বরাদ্দের পূর্ণ অর্থ তুলে নিয়েছেন।

বৈঠাকাটা এলাকার বাসিন্দা তৌফিক শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নাজিরপুর-বৈঠাকাটা সড়কটি দিয়ে ৬ থেকে ৭ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা দেখলে এখন মনে হয় গ্রামের মেঠো পথ। বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করেই রাস্তার টাকা উঠিয়ে নিয়েছে ঠিকাদার। এখন ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি চরমে।’
অটোচালক তরিকুল শেখ বলেন, ‘১৭ কিলোমিটারের এই পথ ৩০ মিনিটের। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শেষ নেই। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত ভাড়াতেও অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো গাড়ি এই এলাকায় আসতে চায় না।’

এই অনিয়মের বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দিলেও, কাজ শেষ না করে কীভাবে টাকা উত্তোলন করা হলো- সে বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এলজিইডি থেকে জানানো হয়েছে, কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের যে সমস্ত কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তাধীন রয়েছে, সে সমস্ত কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষে কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
আর. এম মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Theme Customized By BreakingNews