
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে, সেদিকেও আপনাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটা ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে-বিভ্রান্ত সৃষ্টি হচ্ছে, আন্দোলন হচ্ছে; কেন জানি না মনে হচ্ছে, দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য কিছু মানুষ পেছন থেকে কাজ করছে। আমাদের এই সময়টাতে খুব সাবধান থাকতে হবে। আমরা যেন আবার কোনো অন্ধকারের দিকে চলে না যাই। আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। ভুল করে নিজেদের মধ্যে বিভেদ-অনৈক্য সৃষ্টি করে, সে সমস্ত চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ি, যেখানে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে; আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলে, ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে; কিন্তু আমরা একটা কথা পরিস্কার করে বলতে চাই—আমরা এই দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ আমরা মুসলমান। আমাদের ধর্ম বোধ, আমাদের কৃষি ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য এখানে আমরাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির অঙ্গিকার কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন আমরা করতে দিবো না। কিন্তু কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে, আমরা নাকি কোরআন-সুন্নার আলোকে থাকতে চাই না। কিন্তু আমরা সবসময় কোরআন-সুন্নাহর পক্ষে ছিলাম ও আছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিভিন্ন আইন পাশ করেছিল, মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আলেম-ওলামাদের জঙ্গি বলে ভয়ভীতি দেখানো হতো, ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেই সময় আমরা পেরিয়ে এসেছি। এখন সময় এসেছে নতুন করে দেশ গড়ার।’
এটাই শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই নির্বাচনটাই আমার শেষ নির্বাচন, বয়স হয়ে গেছে, এরপরে আর নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি —না তা জানি না। আমি আপনাদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন অতীতে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পেরেছি; তাহলে আপনারা দয়া করে আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন। এর পাশাপাশি আমার জন্য দোয়া করবেন।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। এ ছাড়াও সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার বিভিন্ন আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।