
আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি // লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও তার আশপাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারি, সিন্দুর্ণা, পাটিগাপাড়া ও ডাওয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কয়েক হাজার একর জমি, ফলে চর এলাকার কয়েক শত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে ওই এলাকার গুলোর বেশ কিছু বসতবাড়িও ।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি বালু সিন্ডিকেট অবৈধ ভাবে ফসলি জমির বালি ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
নদী থেকে কয়েকশ গজ দুরে থাকা সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ পুরো তিস্তার নদীর তীরবর্তী অনেক গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজন।
চরের এক বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে আমার তিন বার বাড়ি ঘর তিস্তার পেটে চলে যায়। এবার আমি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছি। কিন্তু নদী থেকে যেভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে হাতীবান্ধা উপজেলার পাঠিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে জনৈক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে কয়কজন সিন্ডিকেট বানিয়ে স্থানীয় ট্রাক্টর মালিকদের একত্রিত করে থানাপুলিশ ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে প্রতিদিন বিশেষ করে গভীর রাতে উক্ত ইউপির শিমুুলতলা, বটতলা ও ঘণ্টি বাজার এলাকার তিস্তা ও আশপাশের আবাদি জমির বালু ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
উক্ত সাদ্দাম হোসেন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকতার আত্মিয় পরিচয় দিয়ে গর্ব করে বলেন আমি বালু কাটলে কেও আমার কিছুই করতে পারবেনা। সে থানা পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিয়েও আজে বাজে কথা বলেন বলে জানা গেছে।
নদীপারের বাসিন্দা আজগার আলী বলেন, ওই ব্যাক্তি একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় যে ভাবে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এতে আমরা চরম বিপদে রয়েছি। দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে বাড়ি ঘর সহ ফসলি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত চরের বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহকারী কমিশনার ভুমি সহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগ সংস্থার কাছে তাদের বসত বাড়ী ও চাষাবাদের জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিনা হক বলেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। ইতি মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে বালু উত্তোলনকারীদের জরিমানাও করা হয়েছে। এ ছাড়াও যারা বালু সিন্ডিকেট এর সাথে জড়িত তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।