
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন পিছিয়ে গেছে।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালাম এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে ২৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৫ জনকে এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। তবে এ কে এম আক্তারুজ্জামান নামে এক আসামিকে আদালতে হাজির করা না হওয়ায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয় বলে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন গণমাধ্যমকে জানান।
এদিন আল মারুফ নামে আরও এক আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এতে মোট গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে।
মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম জয় বাংলা ব্রিগেডের প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।
২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সেখানেই অবস্থান করছেন। তাকেসহ ২৫৯ জন আসামিকে পলাতক দেখিয়ে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে জয় বাংলা ব্রিগেডের একটি জুম মিটিংয়ে কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়।