
প্রেস কনফারেন্স রুমে এই উত্তর নিয়ে হাসির রোল ওঠে। বিপিএল সাধারণত অনেক গল্পের জন্ম দেয়, কিন্তু এ ধরনের গল্প আলাদা।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস যখন ১৯ বছর বয়সী ইসাখিলকে নির্বাচিত করে, তখন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ম্যাচের শেষে নোয়াখালী দৃঢ় জয় পায়। ইসাখিল ৬০ বলে ৯২ রান করেন এবং নবি সঙ্গে মিলিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।
বিপিএলে এটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাবার সঙ্গে ছেলের একই দলের হয়ে খেলার ঘটনা। নোয়াখালী দলের ম্যানেজমেন্ট ইসাখিলকে প্রথম একাদশে রাখার জন্য এত সময় নিল কেন, তা আরেকটি গল্প, তবে মাঠে নামার পর স্পষ্ট হয়, আফগান ওপেনার ইসাখিল পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন।
নবি পার্টনারশিপের সময় ইসাখিলকে ক্রমাগত পরামর্শ দিতেন, যা নোয়াখালীকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৪/৭ এবং ৪১ রানে জয় দিতে সাহায্য করে। ইসাখিল সাতটি চারের এবং পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে ১৫৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে রান করেন।
নবি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুশি আমার ছেলের সঙ্গে খেলতে পেরে। অনেক দিন ধরে একসাথে খেলার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমি তাকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রস্তুত করেছি। অভিষেকেই ও খুব ভালো খেলেছে। আমরা একসাথে পিচে ছিলাম। আমি বলছিলাম, কী হতে চলেছে; বোলার কী করবে, দ্রুত বল করবে না ধীরে। সে সেই বলগুলোর জন্য অপেক্ষা করছিল এবং দারুণ খেলা দেখালেন।’
‘আমরা গতকাল ৯০ মিনিটে তাকে ম্যাচের প্রস্তুতি দিলাম। কোন ধরনের বোলারের মুখোমুখি হবে তা ব্যাখ্যা করেছি। তাকে [সাইড-আর্ম] স্টিকে দিয়ে কঠিন অনুশীলন করিয়েছি। সে ব্যাটিংয়ের সময় সেই সব জ্ঞান ম্যাচে ব্যবহার করেছেন। অভিষেক চাপ সব তরুণের জন্যই থাকে, কিন্তু ও তা খুব ভালোভাবে সামলেছেন। তিনি গত ২০ দিন ধরে এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, এবং সত্যিই খুব ভালো খেলেছে।’
ইসাখিল বলেন, ‘নব্বইয়ের কাছাকাছি আউট হওয়ায় কোনো আফসোস নেই। আমি সেই সময় ছয় মারার চেষ্টা করছিলাম। আমি আমার দলকে বড় স্কোর দিতে চেয়েছিলাম, তাই শতক না হওয়ায় দুঃখিত নই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সচেতনভাবে বাবার ব্যাটিং স্টাইল অনুকরণ করি না। আমাদের স্বপ্ন আমি জাতীয় দলে খেলবো। তাই আমি কঠোর পরিশ্রম করি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দিই। আমি তাকে অনুকরণ করি না। সবাই আমাকে এ কথা বলে। তবে ব্যাটিং আমার প্রাকৃতিকভাবেই এইভাবে।’
নবি এবার সামনের দিকে ঝুঁকে বলেন, ‘এটি তার নিজস্ব স্টাইল। সে একেবারে প্রাকৃতিক।’