
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলাকালে প্রধান শিক্ষকের পক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি তদন্ত কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, যার ফলে তদন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত রবিবার (১৯ জুলাই) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত চলাকালে প্রধান শিক্ষক তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে দিয়ে তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করেন এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে ফিরে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জুনায়েত হোসেন খান প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। এছাড়া বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যয়, নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করা, জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অনুপস্থিত থাকা, উপস্থিত না থেকেও পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা, বিদ্যালয়ের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সালিশ-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সমাজসেবক আলাউদ্দিন তালুকদার, সাবেক অভিভাবক সদস্য সাহাবুদ্দিন হাওলাদার, অভিভাবক জহিরুল ইসলাম, শহিদ তালুকদার ও রবিউল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত শুরু হওয়ার পর সেটি ভণ্ডুল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তদন্ত চলাকালে কয়েকজন বহিরাগত এসে অভিযোগকারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শোকজের ভয় দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খান। তিনি বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য সমবায় কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অভিযোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যারা তর্ক-বিতর্ক করেছেন, তাদের আমি চিনি না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, “বিদ্যালয় সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো সরকারি তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।