
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
তারা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালেও দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-ধায়ী ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পৌঁছালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের পর শিবির নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর দুপুর ২টায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। আর হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ধাওয়া করতে গেলে পাল্টা ধাওয়ায় শিবিরের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে ছুটে যান। এসময় দুইপক্ষ একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সামনে ও ভেতরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেরা সংঘর্ষ করেছে। এরপর ন্যাশনাল হাসপাতালে আহতরা ভর্তি হয়েছেন।
“সেখানেও আরেকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করছে।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার ফজলুল গণমাধ্যমকে বলেন, “ইউনিভার্সিটিতে একটা প্রোগ্রাম ছিলো। সেখানে ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টররা ছিলেন।
“সেখানে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে চাওয়া থেকে ঘটনার সূত্রপাত। একপর্যায়ে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়; সেটা ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর্যায়ে যায়৷ বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “কীভাবে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন করা যায়, আরও বেশি উত্তরোত্তর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটানো যায়, সেজন্য ইউজিসির চেয়ারম্যানকে আমাদের এখানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
“উনি এখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া শোনার চেষ্টা করছেন এবং আমাদের যে সেই সাফল্যতাকে হিংসাবশীভূত হয়ে সেই ছয় মাস শীতনিদ্রায় যাওয়া ব্যর্থ জকসুর একটা অংশ মূলত মব করার মাধ্যমে তারা, তারা তো আসলেও কাজের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রমাণ করতে পারে না, বারবার মব করার মাধ্যমে জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে। বারবার শিক্ষার্থীবৃন্দকে তারা প্রতারিত করে। এখন শিক্ষার্থীবৃন্দ সচেতন হয়েছে এবং সচেতনতার কারণেই তারা এদেরকে প্রতিরোধ করেছে।”
তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন যে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার পক্ষে ইউজিসি চেয়ারম্যান যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে বিভিন্ন কার্যক্রম করার জন্য এসেছেন, সেখানে যারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, মূলত তারা জগন্নাথের শত্রু, তারা জগন্নাথের উন্নয়ন চায় না।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “ছাত্রদলেরসদস্য সচিব আরেফিন, রুমিসহ আমরা দেখেছি শাহরিয়ার- সবার নেতৃত্বে কীভাবে জকসু, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট এবং ইনকিলাব মঞ্চের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। আমরা দেখলাম আমি যখন ক্যাম্পাসে গেলাম, আজকে একটা আলোচনা সভা ছিল। সে আলোচনা সভায় আমিও একজন আমন্ত্রিত অতিথি।”
স্থায়ী আবাসনের দাবি জানানোর সময় হামলা হয় দাবি করে তিনি বলেন, “এর মাঝখানে (শিবিরের) নূর মোহাম্মদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে ছাত্রদলের কতিপয় গুন্ডারা। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভিসি স্যার আসছে, ভিসি স্যারকে বলছি, ‘ঠিক আছে স্যার, আমরা এটা দেখছি’।
“আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওখানে বসে একটা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করছিলাম। আমরা ওখানে স্লোগান দিচ্ছিলাম, কথা বলতেছিলাম, দাবি উত্থাপন করতেছিলাম। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দিতে হবে। একই সাথে আমরা এটাও বলছি যে টিএসসি নিয়ে যা গন্ডগোল করছেন, টেন্ডার বাণিজ্য করছেন, আপনাদের এটা বন্ধ করতে হবে।
“এই টেন্ডারখোর, অছাত্র, মাদকাসক্ত এই শিক্ষার্থীদের যারা সন্ত্রাসী আগ্রাসী মনোভাব রাখে, তারা এই সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জকসুর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করেছে।”
আরিফ বলেন, “আমরা প্রক্টোরিয়াল টিমসহ সবাই আসতেছে, আমরা কথা বলতেছি। কথা বলার মাঝখানে…তারা বলল যে, ‘ঠিক আছে, তোমরা উঠে যাও’। আমরা বললাম, ‘ঠিক আছে স্যার, ইউজিসির চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে আমরা কথা বলব, বের হব’। এর মাঝখানেই হচ্ছে তারা দেখলাম যে হিমেলের নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে হামলা করতে আসছে। আমরা এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।”
এদিকে হাসপাতালে সংঘর্ষের সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছাড়ায়।
তাদের একজন জামাল হোসেন দুপুরের পর বলেন, “ভায়রা মেয়ে অসুস্থ। তার ট্রিটমেন্টের জন্য এসেছিলাম। দেখলাম নিচে সংঘর্ষ চলছে।
“সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ আটকে ছিলাম। এখন বের হয়ে যাচ্ছি।”