
নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহে ব্যবহৃত সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর ১৮টি স্থানে বালু অবতরণ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য এক বছরের মেয়াদে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
সিটি করপোরেশনের ভাষ্য, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহের ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাশয় ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিজমিরও ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন স্থাপনের কারণে কোথাও কোথাও সড়কের ক্ষতি হয়েছে।
কিছু এলাকায় সড়কের ওপর দিয়েও পাইপলাইন নেওয়া হয়েছিল। এতে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিসি।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কার্যাদেশের মেয়াদও আর বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রেস সচিব সাকলাইন মোস্তাক বলেন, ‘পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ পাইপলাইনগুলো অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।’
বিসিসির এ সিদ্ধান্তের ফলে নগরীতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে জলাশয় ভরাট, কৃষিজমির ক্ষতি এবং সড়কের ওপর পাইপ স্থাপনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাও কমবে বলে আশা করছে সিটি করপোরেশন।