1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
গ্যাস সংকটে গতি নেই বরিশাল বিসিকে - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

গ্যাস সংকটে গতি নেই বরিশাল বিসিকে

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক // পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বেড়েছে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ। তবে সেই সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না বরিশাল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী। গ্যাস-সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যায় বড় ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। ৫৩০টি প্লটের মধ্যে ১১২টিই এখনো বরাদ্দহীন।
বরিশাল বিসিক সূত্রে জানা যায়, ১৩১ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে মোট ৫৩০টি প্লটের মধ্যে পুরোনো অংশে ৩৯৭টি এবং নতুন অংশে ১৩৩টি উন্নত প্লট রয়েছে। ১৭৭টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ৪১৮টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১২টি প্লট এখনো বরাদ্দের অপেক্ষায়।
এসব প্লট বরাদ্দ দিতে গত ১৫ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম সংগ্রহ করায় আবেদনের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল বিসিকে বড় ও মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা গ্যাস-সংকট। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় প্লট বরাদ্দ পেয়েও তিনটি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন করতে পারেনি উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের নানা সমস্যাও শিল্পনগরীর উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
বরিশাল বিসিকের কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন, শিল্পনগরীতে বর্তমানে বড় ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। এর অন্যতম কারণ গ্যাস-সংকট। গ্যাস না থাকায় বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তিনটি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের জন্য প্লট বরাদ্দ নেওয়া হলেও গ্যাসের অভাবে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহও একটি সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে একটি উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শিল্পনগরীর জন্য ডেডিকেটেড ফিডার চালুর আশ্বাস দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে সিলিন্ডার গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে উৎপাদন চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগেও আগ্রহ কমছে।
বরিশাল বিসিকের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মাসিক উৎপাদন প্রায় সাত কোটি টাকার পণ্য। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গ্যাসের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ থাকলে এ ব্যয় কমে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় নামত।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার (কারখানা) মো. আবদুর রহমান বলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে। গ্যাস না থাকায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগও বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে নতুন বিনিয়োগকারীরা এসে কতটা সুবিধা করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, শিল্পনগরীতে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার ৩২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৭৮ জন নারী এবং ৩ হাজার ৭৪২ জন পুরুষ। বর্তমানে শিল্পনগরীতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৯৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোর মধ্যে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্যের ৫৪টি, বস্ত্র ও বস্ত্রজাত পণ্যের ১৯টি, প্রকৌশল ২২টি, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস ছয়টি, রাসায়নিক ৩৬টি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ছয়টি, মুদ্রণ ও প্যাকেজিং ১২টি, বন ও বনজ ১১টি এবং বিবিধ ১৩টি শিল্প ইউনিট উৎপাদনে রয়েছে।
বরিশাল বিসিকের কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন, প্লট বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। কেমিস্ট, রেফকো এবং একটি ফুটওয়্যার কোম্পানিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্লট নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
তিনি জানান, বরাদ্দ না হওয়া ১১২টি প্লটের জমির মূল্য প্রতি শতাংশ চার লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূমি উন্নয়ন কর প্রতি শতাংশে দেড় টাকা এবং সার্ভিস চার্জ আড়াই টাকা।
গোলাম রসুল বলেন, গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নয়—এমন শিল্পের জন্য বরিশাল বিসিকে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যাল, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রকৌশল এবং নিটওয়্যার খাতে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এসব শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও সহজে পাওয়া যাবে।
তবে শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এলেও পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বরিশালে বড় শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছেন না তারা। তাদের দাবি, ভোলায় থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশালে সরবরাহ করা হলে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হাফিজুর রহমান হিরা বলেন, বরিশাল বিসিক এলাকায় আমূল পরিবর্তন আনতে হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে। পদ্মা সেতুসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে শিল্প বিপ্লবের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তার পুরোপুরি সুফল পেতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বরিশালের স্থানীয় অর্থনীতি সেভাবে এগোচ্ছে না। শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। যেসব শিল্প রয়েছে, সেগুলোও অন্য বিভাগের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার দাবি জানান তিনি।
হাফিজুর রহমান হিরা আরও বলেন, পদ্মা সেতু যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনলেও প্রাকৃতিক গ্যাস না থাকায় শিল্প-কারখানার বিকাশ থমকে আছে। সিলিন্ডার গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন করায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা গেলে শিল্পায়নের চিত্র পাল্টে যাবে। পাশাপাশি বিসিক এলাকায় নতুন কারখানা গড়ে উঠে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews