
নিজস্ব প্রতিবেদক // কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সারাদেশে নিহত এবং আহতদের স্মরণে ‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সারাদেশে ছাত্র-জনতার উপর গণহত্যা, গণ-গ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের উপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ও জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচার এবং ছাত্র সমাজের নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৩১ জুলাই এই কর্মসূচির ডাক দেয় তারা।
রাজশাহী
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি থেকে জোর করে আটকের চেষ্টা ও শিক্ষক, শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তা-ধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ব্যানারে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে অবস্থান ও মৌন মিছিল শেষে এই ঘটনা ঘটে।
এর ঘণ্টা খানেক আগে রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজ থেকে বহিরাগত অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী ভাঙা দেয়ালের অংশ দিয়ে জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে। পরে তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশ। তবে এই ধরপাকড় রুখে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জোর করে পুলিশের কাছ থেকে তারা শিক্ষার্থীদের ছিনিয়ে নেয়।
পরে ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর তাদের নিরাপত্তা দিয়ে কাজলা গেইট দিয়ে অটোরিকশায় নিজ নিজ বাড়িতে পাঠায়। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও বাম সংগঠনের নেতারা বলেছেন, অন্যায়ভাবে পুলিশ আজকে কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে। ধস্তা-ধস্তিতে অনেকের জামা ছিঁড়ে গেছে। কিন্তু তেমন কেউ আহত হননি। বহিরাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের অভিযোগ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ। পরে কর্মসূচি থেকেই অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়েছে তারা।
টাঙ্গাইল
৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে পূর্ব নির্ধারিত টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশের দেয়ালে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত লেখা অংকন করে।
দেয়ালগুলোতে লেখা হয়েছে- আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে, ৭১ দেখিনি, ৫২ দেখিনি ২৪ দেখেছি, আমার ভাই মরল কেন প্রশাসন জবাব চাই, নাটক কম করো পিও ইত্যাদি।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে বলে জানা গেছে।
বগুড়া
বগুড়ায় গানে গানে ও দেয়াল লিখনের মধ্যে দিয়ে ‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। শহরের বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির সামনে এই কর্মসূচি পালন করে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের উপশহর এলাকায় বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অর্ধশত বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সামনে আসে। এই সময় তারা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মৌন সমর্থন জানায়।
পরে তারা প্রতিষ্ঠানটির সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দেয়াল লিখন ও বিদ্রোহী সংগীতসহ জাতীয় সংগীত পাঠ করে। এ সময় অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ড, রং তুলি, পোস্টার পেপার দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের আজকের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও কোন বাধা দেয়নি।
কিশোরগঞ্জ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এদিন কিশোরগঞ্জে কোন আন্দোলনকারীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন বা গ্রাফিতি এবং সংবাদপত্রে ছাপা পুলিশি নির্যাতনের ছবি সম্বলিত পোস্টার। শহরের আলোর মেলা, সদর হাসপাতাল, উচ্চ বালক বিদ্যালয় ও গুরুদয়াল সরকারি কলেজের দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানা শ্লোগান সম্বলিত দেয়ালিকা।
এসব দেয়ালিকায় লেখা রয়েছে , ‘১৯৭১: মুক্তি হেয় কেয়া ঘরমে? ২০২৪: বাসায় ছাত্র আছে কি?’ ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’ ‘১৮ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না, আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবেনা ‘ ইত্যাদি।