1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
বাবুগঞ্জে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

বাবুগঞ্জে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭ 0 বার সংবাদি দেখেছে
নিউজ ডেস্ক।। 
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিমের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা এবং প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র, ঠিকাদার, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের একাধিক দিক উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার চাঁদপাশা, কেদারপুর, রহমতপুর, আগরপুর, দেহেরগতি ও মাধবপাশা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত সড়ক, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একাধিক প্রকল্পে নকশা অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করেই তা শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিম্ন হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক ভেঙে যাচ্ছে, কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এবং কালভার্ট ও ড্রেনেজ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বিল ছাড় করাতে ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা, ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা, বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বিলম্বিত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এই কমিশন ব্যবস্থার কারণে অনেক ঠিকাদার বাধ্য হয়ে কাজের মান কমিয়ে দেন, যাতে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নেওয়া যায়।
একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ প্রকল্প নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদার গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার ফলে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত যোগ্য ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকল্প অনুমোদন, কাজ বণ্টন ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এসব অনিয়ম অত্যন্ত কৌশলে পরিচালিত হওয়ায় তা সাধারণভাবে দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু এর প্রভাব সরাসরি উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মানে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দাপ্তরিক নিয়ম উপেক্ষা করার মতো বিষয়ও ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত সুফল জনগণ পাচ্ছে না, বরং সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে দপ্তরের কার্যক্রমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে, যার প্রভাব এখনো প্রশাসনিক কাঠামোতে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সচেতন মহলের দাবি, তার নামে ও বেনামে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, যা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews