
নিজস্ব প্রতিবেদক // সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মির্জা ও মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশও এসেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের করা তিনটি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন, তাদের আয়কর নথি দুদককে সরবরাহ করতে আদালত ঢাকার কর অঞ্চল-২০-কে নির্দেশ দিয়েছে।
গত বছর ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগে চারটি মামলা করে দুদক। স্ত্রী-কন্যাদের মামলায় বেনজীরকেও আসামি করা হয়েছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মির্জা, মেয়ে তাহসীন রাইসা এবং ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-২০-কে নথি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ দেশের প্রথম পুলিশ প্রধান, যিনি একাধারে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী র্যাবের প্রধান ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসরে যান। গত ৩১ মার্চ ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ এবং ৩ এপ্রিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তার বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সম্পদের’ অভিযোগ জনমনে আলোচনার সৃষ্টি করে।
এরপর ২২ এপ্রিল দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেনজীরের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। একই দিন হাই কোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী এবাদাত হোসেনের বেঞ্চ দুদককে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পদ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আটটি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় দুদক। পরে দুদকের আবেদনে বেনজীর, তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। পাশাপাশি তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারও অবরুদ্ধ করা হয়।
দেশের বাইরে তাদের অবস্থান বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না এলেও বোট ক্লাবের সভাপতির পদত্যাগপত্রে বেনজীর জানান, তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিদেশে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়, তারা সবাই দেশ ত্যাগ করেছেন।
জীশান মির্জার নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ‘মিথ্যা’ তথ্য দিয়ে ১৬ কোটি এক লাখ ৭১ হাজার ৩৩৬ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এছাড়া ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকার জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার স্বামী বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে তাকে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই তার আয়কর রিটার্নসহ নথি জব্দ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক।
তাহসীন রাইসার নথি জব্দের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক। এই সম্পদ অর্জনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়েকে সহায়তা করেছেন বেনজীর—এ অভিযোগও আবেদনে রয়েছে। মামলার স্বার্থে তার নথি জব্দ প্রয়োজন বলে দুদক জানিয়েছে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জীশান ও তাহসীনা রাইসার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছিল আদালত।
ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে দুদক জানিয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার নথিও জব্দ প্রয়োজন। গত বছর ১৭ ডিসেম্বর হারুন, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সম্পদ’ মামলাও করে দুদক।