
স্টাফ রিপোর্টার।।
আসন্ন উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা মো. মামুন হাসান। এক যুগের নির্বাসন, মামলা-হামলা আর কারাবরণের পর মানবসেবা দিয়ে তিনি জিতে নিয়েছেন উলানিয়াবাসীর আস্থা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি— মামুন ভাইকেই চাই।
উত্তর উলানিয়ার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মামুন হাসানের বাবা হাজী আব্দুল বাসেদ। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত তিনি বর্তমানে বিএনপির দক্ষিণ আফ্রিকা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং আশুলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। একইসাথে ‘মেহেন্দিগঞ্জ মানব কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার বোন সালমা আক্তার বিনু জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে মামুন হাসানের পরিবারের ওপর শুরু হয় নিপীড়ন। তার ভাষায়, “আমার জন্য আমার ভাগিনাও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছে।
২০২২ সালে বাসায় ককটেল হামলা, পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারসহ নানা হয়রানির মুখে জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
প্রবাসে থেকেও দলকে ভোলেননি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিএনপির ১০০-এর বেশি নেতাকর্মীর বিনামূল্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেও তার পরিবারের ওপর হওয়া নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে ‘মেহেন্দিগঞ্জ মানব কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ প্রতিষ্ঠার পর উলানিয়ায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মামুন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, উত্তর উলানিয়ার হাসানপুরে ডা. ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ৬ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে ৯ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেন।
এছাড়া ৫টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা চালু এবং ১০টি মসজিদে নিয়মিত অনুদান দিয়ে আসছেন। করোনাকালে ৪০ লক্ষ টাকার খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। এখনও প্রতি মাসে ৬০টির বেশি অসহায় পরিবারকে সহযোগিতা করছেন তিনি।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চে উলানিয়া ঘাটে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ফুলের মালা হাতে তাকে বরণ করেন। বিশাল আনন্দ মিছিল শেষে অগ্রণী ব্যাংক চত্বরে পথসভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ‘সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর’, ‘দৈনিক বরিশাল সময়’, ‘আজকের খবর’, ‘তদন্ত রিপোর্ট’ সহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয় সেই সংবর্ধনার খবর।
পথসভায় মামুন হাসান বলেন, “৫ আগস্ট যদি আওয়ামী লীগের পতন না হতো, তবে দেশে ফেরা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। উলানিয়াবাসীর দোয়া আর ভালোবাসাই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। আমি আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি মডেল ইউনিয়ন গড়তে চাই।
প্রায় আড়াই দশক ধরে উলানিয়া ও ঢাকার আশুলিয়ায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মামুন হাসান। দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, একাধিক মামলা-হামলার শিকার হয়েও দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে ‘মানবিক মামুন’ নামে এলাকায় তার আলাদা পরিচিতি গড়ে উঠেছে।
উলানিয়া বাজারের চা দোকানি আব্দুল জব্বার বলেন, কারো মেয়ের বিয়ে আটকায় টাকার জন্য, কারো চিকিৎসা বন্ধ ওষুধের অভাবে— মামুনের দরজা সবার জন্য খোলা। বিপদে যাকে পাই, ভোটটা তাকেই দেব।”
স্থানীয়রা জানান, সমাজসেবামুলক অনেক কাজই মামুন হাসানের সহযোগিতায় হয়েছে। তিনি প্রচারবিমুখ মানুষ। ডান হাতে দান করলে বাম হাত টের পায় না।
উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মামুন ভাই ক্লিন ইমেজের নেতা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে তার নাম কখনো আসেনি। দল যদি সত্যিই ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে, তাহলে উত্তর উলানিয়ায় তার বিকল্প নেই। তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবে।”
মনোনয়ন প্রসঙ্গে মামুন হাসান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশনায় রাজনীতি করি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, আর ইউনিয়নবাসী যদি চায়— আমি জনগণের সেবক হতে প্রস্তুত।”
নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূল, বাল্যবিবাহ রোধ, রাস্তাঘাট মেরামত, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার নিশ্চিতকরণ ও কৃষকদের জন্য সার-বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তফসিল ঘোষণার আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১৬নং উত্তর উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এক যুগ নির্যাতন সয়েও দল ও মানুষের পাশে থাকার যে নজির মামুন হাসান স্থাপন করেছেন, তা উলানিয়ার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের এই আবেগ ও আস্থাকে বিএনপির হাইকমান্ড কতটা গুরুত্ব দেয়।