
নিজস্ব প্রতিবেদক // ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কেক কাটা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনের পৃথক রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদের মধ্যে ১৪ জনের প্রত্যেকের তিন দিন করে এবং একজনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১৪ জন হলেন, মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন রানা (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আব্দুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯) ও মো. হাসিব মিয়া (২৩)। এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর অপর আসামির নাম ফারজানা (২১)।
আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের অনুকুলে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন ও সহায়ক আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদনের বিরোধীতা করে জামিনের অনুকুলে যুক্তি তুলে ধরেন।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামিরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কাটতে এবং মিলাদ মাহফিল করতে একত্রিত হয়েছিলেন। এটা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে পারে না।’
এর আগে, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরগুনা- ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় একটি কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রত্যাশী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত লেখা ২০টি পৃষ্ঠা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা কাগজপত্রে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোগো, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার মূলহোতা ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত, অর্থের জোগানদাতাদের সম্পর্কে তথ্য উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত ১৪ জনের প্রত্যেকের তিনদিন করে এবং একজনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।