
নিজস্ব প্রতিবেদক // ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে বিদেশে নেওয়ার ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক চিকিৎসক। রোববার ১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ডা. আব্দুল আহাদ এ কথা জানান।
তিনি বলেন, হাদির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক, তাকে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যগুলো (কেস সামারি) থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের কয়েকটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে তার পরিবার ও মেডিকেল বোর্ডের উপর।
নিউরোসার্জন আহাদ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেলে হাদির অপারেশনের অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এনসিপির সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন।
এভারকেয়ারে হাদির চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়ে এসে আব্দুল আহাদ বলেন, তার শারীরিক অবস্থা যেরকম আশঙ্কাজনক ছিল, সেটা অপরিবর্তিত রয়েছে। রোববার সকালে তার যে রিপিট সিটি স্ক্যান করা হয়েছে, সেখানেও ভালো কিছু পাওয়া যায়নি। তার ব্রেন স্ট্রেমে যে ইনজুরিটা ছিল, সেটা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার মস্তিষ্কে যে অক্সিজেন স্বল্পতা ছিল সেটা আরও প্রকট হয়েছে। তাকে ছয় ব্যাগ ফ্রেশ ব্লাড ও পাঁচ ব্যাগ প্লাজমা দেওয়া হয়। অনেক রক্ত সঞ্চালনার কারণে ব্রেনের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে বলে আমরা দেখেছি। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, তার শারীরিক অবস্থা পরিবর্তিত রয়েছে; গত দুইদিন যেরকম আশঙ্কাজনক ছিল, সেরকমই রয়েছে। শুক্রবার তার যেরকম জিসিএস-৩ ছিল, এখনো সেটা অপরিবর্তিত রয়েছে।
হাদির কিডনি কাজ করছে জানিয়ে চিকিৎসক আব্দুল আহাদ বলেন, ব্রেনের অপারেশনের আগে তার কিডনি ফাংশনিং ছিল না, সেটা এখন ফিরে এসেছে। তার নরমাল কিডনি ফাংশনিং চলছে। বাকি অর্গানগুলো ভেন্টিলেশন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে। তার পাল্স ও বিপি এখন স্টেবল আছে। তার জন্য দোয়া করবেন।
হাদিকে গুলিকারী ‘খুবই পেশাদার’ মন্তব্য করে এ চিকিৎসক বলেন, আমি একজন সার্জন হিসেবে বলতে চাই, খুব এক্সপার্ট হ্যান্ড এই কাজটা করেছে। তাকে ডান পাশ দিয়ে গুলি করা হয়েছে। সেটা টেম্পোরাল বোন ভেদ করে ব্রেনের যে মেইন অংশ—ব্রেন স্টেমের মধ্য দিয়ে এফোঁড়ওফোঁড় হয়ে গেছে। এক্সপার্ট হ্যান্ড ছাড়া এরকম…সে যদি অভিজ্ঞ না হয়, তাহলে সে এই জায়গায দিয়ে গুলি করতে পারে না।
মস্তিষ্কের কেন্দ্রে গুলির একটি অংশ এখনো রয়ে গেছে জানিয়ে আব্দুল আহাদ বলেন, শুক্রবার অপারেশনের সময় আমরা তার মাথায় বুলেটের একটা ফ্রাগমেন্ট পেয়েছি, এটা কাভার বা শেল হতে পারে। এটাকে আমরা অপারেশনের সময় বের করতে পেরেছি। আরেকটা অংশ তার ব্রেইন স্টেমের মধ্যে রয়ে গেছে। আর একটা অংশ আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, গুলিটা ভাগ হয়ে একটা অংশ বের হয়ে গেছে; আরেকটা ছোট অংশ ব্রেইন স্টেমের মধ্যে রয়ে গেছে। আর একটা কাভার আমরা অপারেশনের সময় বের করেছি।
থেকে যাওয়া গুলির অংশ অপারেশন করে বের করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক আহাদ বলেন, এইসব ক্ষেত্রে আমরা রিস্ক বেনিফিট চিন্তা করি। যেই জায়গায় সেটা আটকে আছে, সেটা খুবই ডিপ সিটেভ।
ওইখানে একসাথে অনেকগুলো রক্তনালী রয়েছে, যেটাকে আমরা সার্কেল অব উইলিস বলি। শুক্রবার যে অপারেশনটা করা হয়েছে, সেটা মূলত ব্রেনটাকে স্পেস দেওয়ার জন্য করা হয়েছে, যাতে চাপ কমে।
তিনি বলেন, শুক্রবার যখন আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেলের ওসেকে রিসিভ করি, তখনই তার দুইটা কার্ডিয়াকরেস্ট হয়ে গিয়েছে। এরপর ৫ সাইকেল সিপিআর দেওয়ার পর সে কামব্যাক করে।
হাদিকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক আব্দুল আহাদ বলেন, এটা মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তার পরিবার যদি বিবেচনা করে মেডিকেল বোর্ড সেভাবে আলোকপাত করবে। সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের কয়েকটি হসপিটালে তার পরিবার কেস সামারি পাঠিয়েছে। হসপিটালের ফিডব্যাক আসার পর তার পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে—কোন হসপিটালে থেকে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে তার পরিবারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে আমরা মনে করি।
সূত্র: বিডি নিউজ