1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
অভিযানেও কমছে না মাদকের বিস্তার! - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।
সংবাদ শিরনাম :

অভিযানেও কমছে না মাদকের বিস্তার!

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১ মার্চ, ২০২৩
  • ৩১৬ 0 বার সংবাদি দেখেছে

রুপন কর অজিত // মাদকের বিস্তার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। নিত্য অসাধু কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক এনে নির্দিস্ট এলাকাভিত্তিক তা সরবরাহে কাজ করছে কারবারিরা। সরবরাহকৃত মাদক বেশিরভাগই তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। মাদকের ভয়াল নেশায় এ প্রজন্ম দিনে দিনে অপরাধের দিকে ঝুকছে। যার ফলে লোমহর্ষক নানান অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। জানাগেছে, বর্তমানে ২৪ ধরনের মাদক রয়েছে বাংলাদেশে।

 

আর প্রতি বছর মাদকের পেছনে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে বলে জানা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র বলছে, বর্তমানে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পেছনে রয়েছে মাদক। ছিনতাই, চুরি, পাড়া-মহল্লায় উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যে মারামারি, খুনাখুনির পেছনে রয়েছে মাদকের জের। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঘটছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। মাদকাসক্তির কারণে খুনাখুনিও হচ্ছে। মাদকের নেশায় বখে যাওয়া তরুণরা টাকার জন্য বাবা-মাকেও রক্তাক্ত করছে। বর্তমানে শিশু ও নারীদের মধ্যেও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা মেয়েরাও অবলীলায় গ্রহণ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর থাকলেও মুল হোতারা অধিকাংশ সময়েই ধরা ছোয়ার বাইরে থাকায় মাদকের বিস্তার রোধে বেগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরও। এছাড়া মাদকের মামলায় অর্ধেকের বেশি আসামী খালাস পেয়ে যাচ্ছে ।

 

 

এজাহার-স্বাক্ষী দুর্বলসহ নানাবিধ কারনে ছাড়া পেয়ে ফের মাদক ব্যবসায় ঝুকছে এ শ্রেনীর অসাধুরা। পুলিশ, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল,গাঁজা, হেরোইনসহ নানা মাদকদ্রব্য। ধরাও পড়ছে মাদক কারবারিরা। তবে আড়ালে থেকে যাচ্ছে গডফাদাররা।

 

 

এর ফলশ্রুতিতেই এ অপরাধ কমিয়ে শুন্য অবস্থান অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিস্তার ও মুল হোতাদের ধরতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তেমনটি ঘটছে দক্ষিণাঞ্চলেও। একদিকে নিয়ন্ত্রন বাহিনী তৎপর অবস্থানে থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে দিনরাত কাজ করছে অন্যদিকে মাদক কারবারিরা নিত্য নয়া কৌশলে মাদক বিস্তারে নানা পন্থা অবলম্বন করে চলেছে। জানাযায়, বরিশাল নগরীর বেশ কিছু স্পটের মধ্যে লঞ্চঘাট অন্যতম। গত ১২ ফেব্রুয়ারী এই এলাকার ২নং গেটে অভিযান চালিয়ে ১০পিচ ইয়াবাসহ বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামের মতলেব সরদারের পুত্র রিয়াজ(২৫)কে আটক করেছে স্টীমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। স্টীমারঘাট পুলিশ ফাঁঁড়ির ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক(এস আই) মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আগের থেকে এই এলাকায় মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমেছে। এছাড়া সাগরদী, রুপাতলী, কেডিসি, পলাশপুর, ভাটিখানা, কাউনিয়া, নতুন বাজার, কলেজ এভিনিউ, বটতলা, অক্সফোর্ড মিশন রোড, কাশিপুর এলাকা থেকেও বিভিন্ন সময় মাদক জব্দ ও কারবারি আটকের তথ্য মিলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদক সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে নারী ও শিশুরা। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকপাচার ও বেচাকেনার ক্ষেত্রে নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বাবা-মা খবর রাখছেন না তার ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে আর কী করছে। অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে বাবা-মা ছেলেমেয়েদের সময় দিচ্ছেন না। এতে করে তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এক সময় ফেনসিডিল, হেরোইনের মতো মাদকের বেশি চাহিদা থাকলেও, এখন তার জায়গা দখল করেছে ইয়াবা।

 

এটি সহজেই বহন করা যায়। এদিকে দক্ষিণে মাদকের চালান প্রবেশেই ধরা পড়তে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। পুলিশ, র‌্যাব , মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কঠোর অবস্থানে থেকে মাদক বিস্তার প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগ মাদকের চালান ধরা পড়ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের হাতে। বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে তথ্য মতে, গত ০৫/৮/২০২১ থেকে ২৮/০২/২০২৩ পর্যন্ত বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা ৪ জেলায় মোট মামলা হয় ১০৮ টি। যেখানে ইয়াবা ৮৩,৫৪০ পিস, গাঁজা ২৭৯.১০০ কেজি, ফেন্সিডিল ৪৮১ বোতল, হেরোইন ১০০ গ্রাম, বিদেশী মদ ৮০ বোতল, বিয়ার ৮৫০ ক্যান, চোলাইমদ ৩৪ লিটার, জাওয়া ৬০০ লিটার, নগদ ৮,৪১,২০০ টাকা ,মটর পিকআপ ০২টি, প্রাইভেটকার ০২টি, সাইকেল ১২টি, মোবাইল সেট ১৯ টিসহ মোট ১৫২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অর্থাৎ আড়াই বছরে মাদক নিয়ন্ত্রণে দপ্তরটির সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। মাদক নিয়ন্ত্রণের এসব অভিযানে এর মধ্যে বরিশাল জেলায় মামলা হয় ৮৭ টি, যেখানে ইয়াবা ৫৪, ৬৪৫ পিস, গাঁজা ২৪,৬৫০ কেজি, ফেন্সিডিল ১৮১ বোধ, হেরোইন ১০০ গ্রাম, বিদেশী মদ ৮০ বোতল, বিয়ার ৮৫০ ক্যান, চোলাইমদ ৩৪ লিটার, জাওয়া ৬০০ লিটার, নগদ অর্থ ৫,০০০,পিকআপ ০২টি, প্রাইভেটকার ০২টি, মটরসাইকেল-০১টি, মোবাইল সেট ১৬টি সহ ১২৭ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পটুয়াখালীতে নিয়মিত মামলা হয় ১৪ টি , যেখানে ইয়াবা ১৮, ৩১৫ পিস, গাজা ৫,২৫০ কেজি, মটর সাইকেল ০১টি, নগদ টাকা ৯৩,২০০, মোবাইল সেট ০১টি সহ ১৭ আসামি গ্রেফতার করা হয়।

 

ঝালকাঠিতে নিয়মিত মামলা হয় ৬ টি যেখানে ইয়াবা ৮,০০০ পিস, ফেন্সিডিল ৩০০ বোতল, মোবাইল সেট ২টিসহ ৭ আসামি গ্রেফতার করা হয়। বরগুনায় মামলা হয় ১ টি যেখানে ইয়াবা ৫৫০ পিস ও নগদ ১,৯৫,০০০ টাকাসহ ১জনকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখযোগ্য মাদক জব্দের মধ্যে গত ১৪, ২১, ২২, ২৪ ফেব্রুয়ারী চার দিনে বরিশালে বিশাল চালান জব্দ করা হয়। জানাযায়, ১৪ ফেব্রুয়ারী বরিশালের বাবুগঞ্জ নতুনহাট এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপর গাড়ি তল্লাশি করে ৪০ কেজি গাঁজাসহ ১টি ট্রাক ও ৮৫০ ক্যান বোতল বিয়ারসহ ১টি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। এসময় গাঁজাসহ ২ জন ও বিয়ারসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের, পশ্চিম ইছাকাঠী,ভূইয়া সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে আটক করা হয়।

 

২২ ফেব্রুয়ারী কড়াপুর এলাকার নবগ্রাম রোডের হাওলাদার বাড়ির গেটের সামনে থেকে ৩ হাজার একশ পঞ্চাশ ও একটি মোটরসাইকে সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। আপরদিকে একইদিনে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝালকাঠির কৃষ্ণকাঠী এলাকার শাহী ৯৯ জর্দা কোম্পানীর ভিতর থেকে ৩ হাজার নয়শ পিচ ইয়াবা সহ আরেকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নগরির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের অভিযানে ৬৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় মদক পরিবহনের জন্য পিক-আপ গাড়িটি ও একটি আলমিরা জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে বরিশালের নিউ লাইফ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বরিশালে মাদকের চাহিদা বেড়েছে, প্রশাসন তৎপর দেখেই এত মাদক আটক হচ্ছে। তবে সামনের দিন গুলোর জন্য প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। তিনি আরো বলেন, যারা এখন মাদকে আসক্ত রয়েছে তাদের সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। তামাক বিরোধী সংগঠন দি অডেশাস্ এর সভাপতি সাঈদ পান্থ বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক মাদক বরিশালে ঢুকছে বলে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযান থেকে জানতে পারছি। তারা বড় বড় চালান ধরছেন। আমাদের ধারণা আইনশৃংখলা বাহিনী ৫০ ভাগ মাদক ধরতে পারছে, বাকি ৫০ ভাগ মাদক গোটা বরিশালে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যা নতুন প্রজন্মকে বিপদগামী করছে।

 

 

 

আমরা দি অডেশাস বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তামাক বিরোধী কর্মকান্ড করছি। কারণে আমরা মনে করি তামাকই মাদকের ১ম স্তর। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার তামাক মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সাবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন বলেন, গত দুই বছরে আমরা যেসব অভিযান চালিয়েছি সবগুলোকে সফল হয়েছি। আর আমরা সোর্স ডেভেলপমেন্টে জোর দিচ্ছি। মাদকগুলো আগে থেকে জব্দ করতে পারায় সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে না। মাদক নির্মূলে এধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews