1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, বোরকা পরা নারীকে খুঁজছে পুলিশ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884
সংবাদ শিরনাম :
বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন মইনুদ্দিন নাসির রুবেল শাতলা পশ্চিম চাতলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু পরকীয়া সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড, র‍্যাবের হাতে মূলহোতা আটক মেহেন্দিগঞ্জ থানা বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ থানা মনোনীত! দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে দেড় বছর পর আবারও চালু হলো ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা পাটগাতী-বাগেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাঁশের হাট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি খুলনা-বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট এক মাসের জন্য স্থগিত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক বদলির ক্ষমতা পাচ্ছেন ডিসি-ইউএনওরা জামায়াত কর্মীকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা

আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, বোরকা পরা নারীকে খুঁজছে পুলিশ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৪১ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বোরকা পরিহিত এক নারীর সঙ্গে ছিলেন বিপুল।

 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সেঞ্চুরি মোটেল নামের ওই হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিপুল চন্দ্র পাল (৪৮) বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন।

 

এ ছাড়া তিনি শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এরুলিয়া পালপাড়া এলাকার মৃত জিতেন্দ্র নাথ পালের ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল সেঞ্চুরি মোটেলে এসে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে হোটেল থেকে চেক আউটের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ মিলছিল না। দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় মোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মৃতের স্বজনদের উপস্থিতিতে ৬১০ নম্বর কক্ষের দরজা খোলা হলে বিপুল চন্দ্র পালকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সেঞ্চুরি মোটেলের রিসেপশন ম্যানেজার মো. এনামুল হক প্রথমে দাবি করেছিলেন, রাত্রিযাপনের জন্য বিপুল একাই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করার পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। ফুটেজে দেখা গেছে, দ্বিতীয় তলার একটি রুমে রাত ৯টায় প্রবেশ করে বিপুল চন্দ্র পাল। এর ২ ঘণ্টা পর সেই রুম থেকে বিপুলের সঙ্গে বোরকা পরিহিত এক নারীকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। সেখান থেকে বিপুলের ভাড়া করা ৬১০ নম্বর রুমে গিয়েছিলেন দুজনে। এরপর রাতের কোনো এক সময়ে একাই ওই নারী রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জালাল উদ্দীন বলেন, নিহত ব্যক্তি মাঝেমধ্যে ওই হোটেলে আসতেন এবং সময় কাটাতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ওই কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক জাতীয় একটি সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, কোমল পানীয় ও পানির বোতল জব্দ করা হয়েছে। এখন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

এদিকে বিপুল চন্দ্র পালের মৃত্যুর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, রক্সি নামের এক ব্যক্তি বিপুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

 

নিহতের স্ত্রী জানান, শুক্রবার রাতে মোবাইলে শেষবার কথা হলে বিপুল তাকে জানিয়েছিলেন তিনি সারিয়াকান্দিতে রক্সি নামের এক ব্যক্তির বোনের বাড়ির দাওয়াত খেতে যাচ্ছেন। ফিরতে রাত ১২টা বা ১টা বাজবে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

নিহতের মেয়ে ও প্যারামেডিক্যাল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিথি বলেন, বাবা বলেছিলেন বোনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাবেন। সকাল থেকে ফোন বন্ধ ছিল। পরে উনার মৃত্যুর খবর পাই। কক্ষ থেকে ওষুধ পাওয়ার যে কথা ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উনাকে মেরে ফেলার জন্যই এসব করা হয়েছে। রক্সি নামের এক লোক আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে গ্রেপ্তার করলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। সিসিটিভি ফুটেজে কাকে দেখা গেছে তাও পরিষ্কার হওয়া দরকার। বাবার মোবাইল ফোনও পাওয়া যাচ্ছে না।

 

বিপুল চন্দ্র পালের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার এলাকায় ও কর্মক্ষেত্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক নূর আমিন মন্ডল বলেন, বিপুল অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।

 

এরুলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. নূর আলম বলেন, বিপুল আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। গত নির্বাচনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম, কিন্তু আমাদের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। এলাকায় কোনোদিন কারও সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। আমরা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

 

বগুড়ার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বোরকা পরিহিত নারীর পরিচয় এবং এই ঘটনায় রক্সি নামের ওই ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews