1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি, অতঃপর - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি, অতঃপর

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিউজ ডেস্ক ।।

বরিশালের আগৈলঝাড়ার অনেক যুবক ইতালিতে কাজের আশায় জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন দালালদের হাতে; কিন্তু ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই তাদের স্বপ্ন থেমে গেছে লিবিয়ায়।

ইতালিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে সেখানে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে লিবিয়ায় মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

এ ঘটনায় ইতালির জিম্মি দশা থেকে ফেরত আসা উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট ডুমুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশাল মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।

স্বজনরা জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫ যুবক বর্তমানে লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন। অনেকেই এখনও বন্দিদশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে দুই-একজন দেশে ফিরলেও এখনো অনেকেই সেখানে আটকা রয়েছেন।

এ ঘটনায় ইতালিতে পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করে মেহেদী হাসান খান নামে এক যুবক মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে জামাল মোল্লা, তার ইতালি প্রবাসী দুই ছেলে জাকির মোল্লা ও সাকিব মোল্লা এবং জামাল মোল্লার দুই শ্যালক পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত বুদাই বেপারীর ছেলে বাবুল বেপারী ও হাবুল বেপারী ওরফে হাবুল মেম্বার। ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে মামলা করার নির্দেশ দেন। মামলাটি আগৈলঝাড়া থানায় রুজু করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বর্তমানে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, ইতালিতে বৈধভাবে ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন জামাল মোল্লা।

তিনি দাবি করেন, তার ইতালি প্রবাসী দুই ছেলে জাকির ও সাকিবের মাধ্যমে ইতালিতে কাজের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ আশ্বাসে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগীরা জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেন।

প্রথমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাবুল বেপারী ও হাবুল বেপারীর সম্মতিক্রমে জামাল মোল্লার হাতে নগদ ১ থেকে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে আসামিদের দেওয়া পূবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে প্রত্যেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা করে পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান জানান, তাকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানোর কথা বলে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়। সেখানে তাকে ঠিকমতো খাবার না দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে লিবিয়ার পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়ে বেনগাজির বাংকিনা কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস কারাবন্দি ছিলেন। ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের করুণ অবস্থার কথা জানান মেহেদী।

তবে তার খোঁজ জানতে চাইলে দালালরা পরিবারকে জানায়, তাকে ইতালির কোস্টগার্ড রিসিভ করেছে।

পরবর্তীতে মেহেদীর পরিবারের কাছে তার মুক্তির জন্য আরও ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ধারদেনা করে ওই টাকা পরিশোধ করার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফিরে মেহেদী জানতে পারেন, একইভাবে আরও অনেক যুবক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫ জনসহ কয়েক জেলার মোট ১০৮ জন যুবক দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যেকে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ‘বডি কন্ট্রাক্টে’ ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এ ব্যাপারে জামাল মোল্লার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews