
নীলফামারী প্রতিনিধি।। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে এক অসহায় বিধবা নারীর বসতভিটার সামনে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, মফিজ চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশ্ববর্তী একটি সরকারি মৃত ইন্দারা (পানির উৎস) দীর্ঘদিন আগে ভরাট হয়ে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই খাস জমির সংলগ্ন নিজস্ব বসতভিটায় বিধবা বেগম বেওয়া তার সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। বসতভিটার সামনের সরকারি খাস জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবহার করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী বেগম বেওয়া জানান, তার শ্বশুর দৌ বসুনিয়া জীবিত থাকাকালে তার স্বামী, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে নিজস্ব তিন শতাংশ জমিতে বসবাস শুরু করেন। বাড়ির সামনের সরকারি খাস জমিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলেও সম্প্রতি পাশের বাড়ির কালু মামুদ তার সহযোগীদের নিয়ে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালু মামুদ দীর্ঘদিন ধরেই জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে জমিটি দখল করেন। এতে বিধবা নারী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “সরকারি খাস জমি কেউ দখল করতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের জমি অসহায় বিধবা নারীদের বরাদ্দ পাওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে খাস জমিটির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বর্তমানে জমিটি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কেউ খাস জমি দখল করলে বা দখলের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বসবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।