
পঙ্কজ কুন্ডু, গৌরনদী প্রতিনিধি।।
মাদক ব্যবসার অন্ধকার জগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন চার মাদক বিক্রেতা। নিজেদের ভুল পথ থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করার অঙ্গীকার করেছেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন মাদক নির্মূল পরিষদের উদ্যোগে বাকাই হাটের (ঘোষের হাট) খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন—খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাকাই গ্রামের মিলন সরদার ও তার স্ত্রী পুতুল বেগম, একই গ্রামের আসলাম সরদার এবং পূর্ব সমরসিংহ গ্রামের ফরিদ বেপারী। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় মাদক ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন চারজন।
খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন মাদক নির্মূল পরিষদের সভাপতি একেএম মাইনুদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন মাদক নির্মূল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন জনি, আত্মসমর্পণকারী মিলন সরদার, ফরিদ বেপারী ও আসলাম সরদার, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির সরদার এবং ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আরীসহ অন্যরা।
আত্মসমর্পণকারীরা বলেন, তারা একাধিকবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছেন। তবে পুলিশের হয়রানির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে তারা দাবি করেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবার নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তারা। এজন্য উপজেলা প্রশাসন ও মাদক নির্মূল পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসন ও সমাজে ফিরে আসার পথ তৈরি করতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।