গ্রিনিচ মান সময় ১৫টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচটি সিসিটিভির দুটি ক্রীড়া চ্যানেলের কোনোটিতেই সম্প্রচার করা হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা। শুধু রিয়ালের ম্যাচই নয়, লা লিগার একাদশ রাউন্ডের অন্য কোনো ম্যাচও এখন পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি।
গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ভিডিওতে এমবাপ্পেকে মাও সে তুংকে ‘স্বৈরশাসক’ বলতে শোনা যায়। এরপর স্পেনের শীর্ষ ফুটবল লিগের সম্প্রচার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ ঘটনায় পরে ক্ষমা চেয়েছেন এমবাপ্পে, রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগা কর্তৃপক্ষ। এমবাপ্পের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সপ্তাহান্তের আগে এএফপির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে লা লিগা জানিয়েছিল, চীনের টেলিভিশনে আগে তাদের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হতো। তবে কোন কোন মাধ্যমে ম্যাচগুলো দেখানো হতো, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি তারা।
এএফপির সাংবাদিকেরা অবশ্য রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান চায়না মোবাইলের মালিকানাধীন ডিজিটাল সম্প্রচারমাধ্যম মিগুতে কয়েকটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার হতে দেখেছেন। এর মধ্যে শনিবার আলাভেসের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৬-১ গোলের জয়ও ছিল। তবে রোববার রেসিং সান্তান্দার ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচটি মিগুতেও সম্প্রচারিত হতে দেখা যায়নি।
সিসিটিভির নিয়ন্ত্রক সংস্থা চায়না মিডিয়া গ্রুপ সোমবার জানিয়েছিল, তারা লা লিগার সম্প্রচার স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, বিতর্কের অবসান ঘটাতে হলে লা লিগা, এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষমা চাওয়া ছিল ‘অপরিহার্য পূর্বশর্ত’।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমবাপ্পেকে বলতে শোনা যায়, ইন্টারনেটে তাকে নিয়ে দেখা সবচেয়ে মজার ব্যঙ্গচিত্রটি ছিল তার মুখের সঙ্গে ‘কোনো এক ব্যক্তির ছবি জুড়ে দেওয়া, আমার মনে হয় তিনি চীনের একজন স্বৈরশাসক’। তার এই বক্তব্যে মাও সে তুংকে নিয়েই ইঙ্গিত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ব্যঙ্গচিত্রটিতে মাওয়ের ছবির সঙ্গে এমবাপ্পের মুখ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরে নিজের মন্তব্যকে ‘বিবেচনাহীন’ উল্লেখ করে ক্ষমা চান এমবাপ্পে। লা লিগা জানায়, তার মন্তব্যে তারা ‘গভীরভাবে’ দুঃখিত। এরপর একই পথে হাঁটে রিয়াল মাদ্রিদও।
পরবর্তী সময়ে সিসিটিভির ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইটে জানানো হয়, চায়না মিডিয়া গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য চীন অত্যন্ত বড় একটি বাজার। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির শীর্ষ ফুটবল লিগের ম্যাচও সম্প্রচার করা হয়।
শনিবার রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিয়ো বলেছিলেন, বিতর্কের অবসানে ক্লাব তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাজ করেছে।
চীনে মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ১৯৭৬ সালে মারা যাওয়া মাওয়ের কঠোর নীতির কারণে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ও লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে মনে করেন ইতিহাসবিদেরা।
এমবাপ্পের মন্তব্যের পর চীনের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে থাকা পৃষ্ঠপোষকতার চুক্তি বাতিল করেছে।
চীনের রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে এর আগেও বিদেশি ক্রীড়া সংস্থা ও খেলোয়াড়েরা বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ২০১৯ সালে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল লিগ এনবিএর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কার্যত কয়েক বছরের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই পোস্টটি দিয়েছিলেন তৎকালীন হিউস্টন রকেটসের মহাব্যবস্থাপক ড্যারিল মোরি।