
নিজস্ব প্রতিবেদক // পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাস জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ হারিচ আহম্মেদ (৬৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে মহিপুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত সোমবার (১৯ জুলাই) কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে খাস সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারিচ আহম্মেদ ওই গ্রামের মৃত মজিবুর মিয়ার ছেলে। ২১ জুলাই মহিপুর থানায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করা হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে প্রভাবশালী খলিল মিয়ার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল নিতে আসে। এতে বাধা দিলে হারিচ আহম্মেদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তাদের দাবি, খলিল, সলেমান, রবিউল, মিজানুরসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে এবং কাদার মধ্যে ফেলে নির্যাতন করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয় এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে হারিচ আহম্মেদকে পানিতে চুবিয়ে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। স্থানীয়রা তাকে ও আহত অন্যদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এলে কিছু সময় তাদের বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে গুরুতর আহত হারিচ আহম্মেদ ও চার নারীকে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে এবং পরে আমতলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশালে নেওয়ার পথে হারিচ আহম্মেদের মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়ে তার বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের নাতনি সুবর্না বলেন, তার দাদাকে মারধর করা হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনিও এগিয়ে গিয়েছিলেন। তখন তাকেও মারধর করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরের অভিযোগ, ইউপি সদস্য জসিম খন্দকারের নির্দেশে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য জসিম খন্দকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে স্থানীয় নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার বলেন, ২১ জুলাই এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার পর আহতদের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে এসেছে।