
বিশেষ প্রতিনিধ // নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ২৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান সেচ ক্যানেল সংলগ্ন তিনবট এলাকা থেকে বাইশপুকুরগামী এই সড়কটির কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং সিডিউল বহির্ভূতভাবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কের সাবগ্রেড ১৮ ইঞ্চি করার নিয়ম থাকলেও সেখানে করা হচ্ছে মাত্র ১০ ইঞ্চির মতো। অন্যদিকে, ৬ ইঞ্চি পুরুত্বের সাব-বেস তৈরির কথা ভিটি বালু ও নতুন খোয়ার মিশ্রণে। কিন্তু বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটিযুক্ত বালু এবং এক যুগের পুরনো পরিত্যক্ত ইটের খোয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুরনো ও জরাজীর্ণ খোয়া ব্যবহারে সড়কের স্থায়ীত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাজের এই বেহাল দশা দেখে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে পুরনো ইটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি জানান, সেখানে ৬০ লাখ টাকার পুরনো ইট বিক্রি হয়েছে এবং স্টেটমেন্টে সেই ইট ব্যবহারের অনুমোদন ধরা আছে। একই সাথে সংবাদমাধ্যমের নিকট তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, পুরনো ইটের খোয়া দিয়েই কাজ সম্পন্ন হবে। তবে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাকিল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের অপর এক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আলম ও উপজেলা প্রকৌশলীর যোগসাজশেই এসব অনিয়ম হচ্ছে। একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দুর্নীতির তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টিকে ‘নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে’ বলে এড়িয়ে যান। এমতাবস্থায়, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও টেকসই সড়ক নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জোড় দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।