
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে প্রাণের সাড়া পেলেই ছুটছেন সদলবলে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হতাশ হতে হচ্ছে তাদের। ভূমিকম্পের ৮ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত মানুষের জন্য আলাদাভাবে তল্লাশি অভিযান বন্ধ করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবুও অলৌকিকভাবে বৃহস্পতিবার ৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ততোক্ষণে পেরিয়েছে ভূমিকম্পের ২৪৮ ঘণ্টা।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাখা ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, শুধু তুরস্ক নয় বরং গোটা মানব ইতিহাসে এটি ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলেও বর্তমানে গোটা আন্তর্জাতিক মহল পাশে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সব দেশের প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, এই অন্ধকার দিনে যারা বন্ধুত্ব দেখিয়েছেন তুরস্ক কখনই ভুলবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই সমস্ত বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোকে যারা আমাদের জাতির জন্য দিনরাত সাহায্য সংগ্রহ করছে। তাদের দলগুলোর সাথে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে এবং তাদের প্রার্থনায় আমাদের ভুলে যায়নি।
তবে সিরিয়ায় এখনও বহু মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। এমনকি, ঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না উদ্ধারকাজও। দেশটির জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। দুইটি দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুই কোটি ৬০ লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজন জরুরি সহায়তা।
এদিকে ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে একদিকে যেমন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, এরই মধ্যে আবার লুটপাট শুরু হয়েছে। ভূমিকম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে লুটপাটকারীরা বাড়িঘর এবং শপিংমলের দরজা জানালা ভেঙে যা পাচ্ছেন, নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে লুটপাটের ঘটনায় গোলাগুলিও হয়েছে। রোববার এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ইতোমধ্যে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আটটি প্রদেশ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটতরাজসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে ব্যাংক নোট, গহনা, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ ফেব্রয়ারি) সকালে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল তুরস্ক এবং সিরিয়া। তার পর অন্তত ১০০ বার জোরালো আফটার শকে কাঁপে দুই দেশের মাটি। এতে গুঁড়িয়ে যায় দুই দেশের হাজার হাজার হাসপাতাল, স্কুল ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে দেশ দুটির লাখ লাখ মানুষ।
সিরিয়া-তুরস্কের এই ভূমিকম্পকে শতাব্দীর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বলা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনে এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে ৫০ হাজার। ১৯৩৯ সালের পর এটি তুরস্কের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প।
সূত্র: আলজাজিরা রয়টার্স