
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী লিখিত আবেদন সত্ত্বেও প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের সাংবাদিক নলছিটিতে চলমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য জানতে আবেদন করলে পিআইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অভিযোগ আছে, তিনি তথ্য চাওয়ার যৌক্তিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, “তথ্য গোপন করাই অনিয়ম আড়াল করার প্রধান উপায়।”
সূত্র জানায় বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিক বা সাংবাদিক সরকারি দপ্তর থেকে প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। তবে গত (২৯ মার্চ) রবিবার ডাকযোগে একটি আবেদন করেও পিআইও আওলাদ হোসেন সেই আবেদন গ্রহণ না করে উল্টো প্রেরকের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সেগুফতা মেহনাজ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি তো এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি, এরপর খোঁজ নিয়ে দেখোখোঁজ করব। অপরদিকে
ঝালকাঠি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নাঈম আহমেদ জানিয়েছেন, “তথ্য অধিকার আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। আওলাজ হোসেনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এরপর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে।”
তবে সচেতন নাগরিকদের মতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তাই প্রকল্পের বরাদ্দ, নাম ও অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এখন সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য,নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাটের একটি টিআর প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ থাকলেও অতিরিক্ত খরচের নাম করে পিআইও ৯ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী, নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ করার পরপরই পিআইও ওই টাকা ফেরত দেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওলাদ হোসেন আগে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ এর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। এই সময়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে নামে-বেনামে সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি ছাড়াও বরিশালে একাধিক নামে-বেনামে সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা