1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানি: বরিশালের নৌরুটে সতর্কতার অভাব - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানি: বরিশালের নৌরুটে সতর্কতার অভাব

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬০ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নদীঘেরা বরিশাল বিভাগের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নৌপথ। স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুর প্রধান ভরসা এই নদীপথই। কিন্তু সেই নৌপথই আজ হয়ে উঠেছে ভয়ংকর ঝুঁকির নাম। সেকেলে প্রযুক্তি, অদক্ষ চালক, অবৈধ বাল্কহেড, ডুবোচর ও শীতের ঘন কুয়াশা মিলিয়ে নৌযাত্রা প্রতিদিনই রূপ নিচ্ছে মরণফাঁদে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বরিশাল বিভাগের নদীগুলোতে তিন শতাধিক নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় চারশ মানুষ।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ১১০ জন, ২০২২ সালে ৬৪টি দুর্ঘটনায় ৬৮ জন,

২০২৩ সালে ৬২টি দুর্ঘটনায় ৬২ জন, ২০২৪ সালে ৫৫টি দুর্ঘটনায় ৬৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৬৩ জন নিহত হয়েছেন।

নৌযানের চালক ও কর্মীদের ভাষ্য, অভ্যন্তরীণ নৌরুটের বড় একটি অংশ এখনো চলছে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তিতে। অনেক ক্ষেত্রে দক্ষ চালকের পরিবর্তে অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের যাত্রীবাহী সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, রাতের নদীপথে সবচেয়ে বড় হুমকি বালু বোঝাই বাল্কহেড। শীতকালে নাব্যতা কমে যাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা যোগ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীপথ নির্দেশনার বয়া অনেক জায়গায় অকেজো হয়ে আছে।

আরেকটি লঞ্চের সুকানী আল আমিন বলেন, দক্ষ চালকের অভাব নৌপথের অন্যতম বড় সমস্যা। অনেক চালকই নিয়ম মেনে প্রশিক্ষণ না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

লঞ্চ মালিকদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। তবু বর্ষা ও শীত মৌসুমে ঝুঁকি বাড়লেও অনেক লঞ্চ বাধ্য হয়ে চলাচল করছে। অধিকাংশ নৌযানে নেই আধুনিক রাডার, ফগ লাইট বা উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা। ফলে কুয়াশায় দিক নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান জানান, সার্ভে ও অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলার কথা নয়। তবে বাস্তবে নিয়ম ভাঙার ঘটনা রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

বরিশাল নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার নাজমুল হক বলেন, সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে চালক ও মালিকপক্ষের সচেতনতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট কাটানো কঠিন।

নদীর সঙ্গে লড়াই করেই বরিশালের মানুষ বাঁচে। কিন্তু সেই নদীপথেই যখন প্রতিদিন ঝরে যায় প্রাণ, তখন প্রশ্ন ওঠে আর কত মৃত্যু হলে নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews