
গিনি জাতীয় দলের গোলরক্ষক ওনো ম্যাচের সময় আকাশে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে মাঝমাঠের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। সে সময় দে মিগেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হন টেনেরিফের এই স্ট্রাইকার।
নিজের ক্লাব আন্দোরার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওনো বলেন, ‘এগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন। কী বলব, তা খুঁজে পাচ্ছি না। যা ঘটেছে, তা মেনে নেওয়া আমার জন্য ভীষণ কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘হেসুসের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি তার কথা ভাবছি, তার পরিবারের কথা ভাবছি এবং যারা তাকে ভালোবাসতেন, তাদের সবার কথা ভাবছি।’
‘আমি জানি, এ ঘটনায় অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং যা কিছু সামনে আসবে, আমি সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তার মুখোমুখি হব। তবে এই মুহূর্তে সত্যি বলতে, হেসুস এবং আমাদের সবার কষ্ট ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শান্তিতে ঘুমাও, হেসুস।’
স্পেনের পুলিশের সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বুধবার ঐচ্ছিক অনুশীলন শুরুর আগে আন্দোরার খেলোয়াড়েরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তবে ২৫ বছর বয়সী ওনো সেই অনুশীলনে অংশ নেননি।
দে মিগেলের মৃত্যুর পর ওনোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নিরক্ষীয় গিনির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ভেনানসিও তোমাস মিকা। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমাদের খেলোয়াড় হেসুস লাজারো ওনোর প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানানো আমার দায়িত্ব বলে মনে করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠের এই মর্মান্তিক ঘটনার অনিচ্ছাকৃত অংশীদার হিসেবে সে গভীর শোক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। নিরক্ষীয় গিনির ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা তাকে সব ধরনের মানবিক ও পেশাগত সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছি। আমাদের খেলাধুলায় কেউ কখনো এমন ভয়াবহ ঘটনা দেখতে চায় না।’
আন্দোরার ডিফেন্ডার লাউতারো স্পাৎসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার ভাষ্য, এই ঘটনায় ওনো গভীরভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
স্পাৎস লিখেছেন, ‘যারা তাকে চেনে, তারা জানে সে কেমন মানুষ। এই মুহূর্তে সে কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা-ও আমরা জানি। সে কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করতে পারে না।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফুটবলে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এমন কোনো ঘটনার পরিণতি এতটা মর্মান্তিক হতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।’
এদিকে দে মিগেলের মৃত্যুর পর চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে টেনেরিফ ও আন্দোরার নির্ধারিত দুটি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার গ্রানাডার মাঠে খেলার কথা ছিল টেনেরিফের। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে মায়োর্কাকে আতিথ্য দেওয়ার কথা ছিল আন্দোরার।
এক বিবৃতিতে গ্রানাডা জানিয়েছে, ‘টেনেরিফের খেলোয়াড় হেসুস দে মিগেলের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ নভেম্বর নুয়েভো লস কারমেনেসে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে।’
মায়োর্কাও জানিয়েছে, ‘এমন শোকাবহ সময়ে সবার আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত পরিস্থিতির প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতার।’
দে মিগেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চলতি সপ্তাহের সব কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনার ম্যাচও স্থগিত করেছে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন।
শনিবার নিজেদের মাঠে দে মিগেলের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে টেনেরিফ। সেখানে সমর্থকেরাও অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া ছয় দিনের শোক পালন করছে ক্লাবটি।
ক্লাব জানিয়েছে, দে মিগেলের শেষকৃত্যে প্রথম দলের খেলোয়াড়, পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন। স্পেনের মূল ভূখণ্ডের তোলেদো প্রদেশের নাভাহেরমোসায় তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। ওই এলাকায় তার পরিবারের শিকড় রয়েছে।
দে মিগেলের স্মরণে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার আয়োজনে চলতি সপ্তাহের বাকি ম্যাচগুলোতেও একই কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।