1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
বরিশাল নগরীর গলার কাঁটা নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

বরিশাল নগরীর গলার কাঁটা নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // নগরবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে বরিশাল নগরীতে চালু হয়েছিল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সেই অটোরিকশাই এখন নগরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন এসব অটোরিকশা যেমন বাড়াচ্ছে তীব্র যানজট, তেমনি আদায় হচ্ছে গলাকাটা ভাড়া। তার ওপর বছরের পর বছর ফাঁকি দিচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, শুধু গত অর্থবছরেই নবায়ন বাবদ আড়াই কোটি টাকার ওপর রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন অটোরিকশা মালিকরা। অন্যদিকে, বরিশালে লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈধ-অবৈধ প্রায় ২০ হাজার অটোরিকশা। বিদ্যুৎবিভাগের তথ্য বলছে, এ সংখ্যক অটোরিকশার ব্যাটারিতে চার্জ দিতে দৈনিক দুই লাখের বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বর্তমানে নগরীতে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট।

জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের অধীনে বর্তমানে ৭ হাজার ৬১০টি হলুদ অটোরিকশার টোকেন রয়েছে। এর বাইরে আরও দ্বিগুণের বেশি হলুদ অটোরিকশা মহানগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা।

বরিশাল সিটি কপোরেশনের লাইসেন্স শাখার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১০-১১ অর্থবছরে সিটি এলাকায় এক হাজার ২৯০টি ব্যাটারিচালিত হলুদ অটোরিকশার লাইসেন্স দেয় সিটি করপোরেশন। এরপর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আরও ১৩২০টি অটোরিকশার টোকেন দেওয়া হয়। পরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। এরপর তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৫ হাজার হলুদ অটোরিকশার লাইসেন্স দেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেওয়া হয় আরও দুই হাজার ৬১০টি লাইসেন্স। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরিশাল সিটির সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওসার সব মিলিয়ে মোট সাত হাজার ৬১০টি ব্যাটারিচালিত হলুদ অটোরিকশার নবায়ন দেন। তবে বর্তমানে নগরীতে ২০ হাজারের বেশি হলুদ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে বছরে বিসিসির ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হওয়ার কথা। সেখানে প্রতি বছরই রাজস্ব ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নবায়ন হয়েছে মাত্র ৭২২টি অটোরিকশা, যা থেকে আয় হয়েছে ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫০ টাকা। ঘাটতি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।’

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর কুমার স্বর্ণকার এবং বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পাঁচ ব্যাটারির রিকশা বা ইজিবাইক একবার চার্জ দিতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসাবে হলুদ অটোরিকশায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কিলোওয়াট এবং তিন চাকার ব্যাটারির রিকশায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোওয়াট ইউনিট পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। সে হিসাবে বিশাল অংশের ব্যাটারিরিকশা একসঙ্গে চার্জ দিতে গিয়ে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয় সাধারণ গ্রাহকদের।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর দপ্তর) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হলে প্রতিনিয়ত এসব অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিআরটিএ এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে আরও কার্যকর কোনো নীতিমালা করা যায় কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা করছি।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে লাইসেন্স বা নবায়ন না থাকা অনেক অটোরিকশাকে জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews