
নিউজ ডেস্ক ।।
বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে এক সময় সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, দালালনির্ভরতা ও তথ্যের অস্পষ্টতা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। তবে গত বছরের শুরুতে সেই চিত্রে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিচালক রোজী খন্দকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অফিসটির সার্বিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টরা।
অফিস সূত্র জানায়, যোগদানের শুরু থেকেই তিনি পাসপোর্ট ও ভিসা সেবাকে আরও স্বচ্ছ, সময়নিষ্ঠ ও জনবান্ধব করতে একাধিক প্রশাসনিক উদ্যোগ নেন। দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ এবং সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা চালু করেন তিনি।
বর্তমানে অফিস চত্বরে দালাল প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সিসিটিভি নজরদারি, কাউন্টারভিত্তিক সেবা ও অনলাইন আবেদন যাচাই ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর ফলে সেবাগ্রহীতারা নিজেরাই নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারছেন।
বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. আল-আমিন হাওলাদার বলেন, “আগে এখানে আসলে দালাল ছাড়া কাজ হবে না-এমন ধারণা ছিল। এখন সেই চিত্র বদলেছে। আমি নিজেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি এবং নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পেয়েছি।”
বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ও ভিসা সহ আবেদনকারীদের চাহিত তথ্য প্রধানের মাধ্যমে ইস্যু সেবা চালু রয়েছে। আবেদন যাচাই ও ডেলিভারি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও হজ্ব যাত্রীদের জন্য আলাদা সহায়তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এতে করে এই শ্রেণির মানুষ দ্রুত ও সম্মানজনক সেবা পাচ্ছেন।
গৌরনদীর বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অনলাইনে আবেদন করার পর অফিসে এসে খুব দ্রুত বায়োমেট্রিক দিতে পেরেছি। কাউন্টারে কেউ হয়রানি করেনি, সবাই নিয়ম মেনে কাজ করছে।”
সেবাগ্রহীতাদের আস্থা ফেরার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রধান কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা। প্রয়োজনে সেবাগ্রহীতারা সরাসরি উপপরিচালক রোজী খন্দকারের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। অভিযোগ বা জটিলতা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, “আমার আবেদনে একটু সমস্যা হয়েছিল। পরে আমাকে সরাসরি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়েছে।”
অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান নেতৃত্বে কাজের পরিবেশে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বেড়েছে। সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী সেবা প্রদানে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা দেওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপপরিচালক রোজী খন্দকার বলেন, “গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি চেষ্টা করছি অফিসের সেবাকে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে। পাসপোর্ট একটি মৌলিক নাগরিক সেবা-এখানে কোনো অনিয়ম বা হয়রানির সুযোগ নেই। সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন-এই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যে পরিবর্তন এসেছে, তা কার্যকর নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার ফল। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কমবে-এমন প্রত্যাশাই করছেন সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উপপরিচালক রোজী খন্দকারের নেতৃত্বে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস এখন একটি স্বচ্ছ ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথে।