
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নদ-নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ মাছ শিকার এবং বিশেষ করে রেনু পোনা আহরণের অভিযোগ এখন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্তে মাঠপর্যায়ে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়া হায়দার চৌধুরী। নির্দেশনার পর পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় এলেও তা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মীরগঞ্জ খেয়াঘাটসহ বাবুগঞ্জের বিভিন্ন নদীপথকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধ রেনু পোনা আহরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নদী থেকে রেনু পোনা সংগ্রহের পর তা রাতের আঁধারে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে তদন্ত শুরুর আগেই জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কিছু বক্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ব্যর্থতার প্রশ্নে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে বরং বিষয়টিকে প্রশাসনিকভাবে ‘সমন্বিত দেখার’ কথা বলেই তিনি মূল প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, “নতুন করে যেন কোনো অবৈধ রেনু পোনা বা মাছ এই এলাকা দিয়ে পরিবহন বা বাণিজ্য করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে।”
তবে এতদিন ধরে এই এলাকায় অবৈধ রেনু পোনা ও মাছ বাণিজ্য চললেও উপজেলা কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল-প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো সমালোচনামূলক অবস্থান না নিয়ে বরং প্রশাসনিক ব্যাখ্যার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেহেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে জেলা পর্যায়ের এমন নরম অবস্থান তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। তাদের আশঙ্কা, তদন্ত যদি শুরুতেই পক্ষপাতমূলক মনোভাবের মধ্যে থাকে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.এফ.এম. নাজমুস সালেহীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দায়িত্বে অবহেলা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ কামরুল হাসান বলেন, “মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি সঠিকভাবে ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। এ জন্য জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। পাশাপাশি আমি নিজেও বিষয়টি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখব। তদন্তে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরো তদন্ত কার্যক্রম স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হবে।