
আন্তর্জাতিক ডেস্ক // যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে তীব্র শীতকালীন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফলে ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা এমনটি জানিয়েছেন।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ঝড়টি পরবর্তী দুই দিন ধরে বিশাল একটি অঞ্চলকে পুরু তুষারের চাদরে ঢেকে দেয়। ভারি তুষারপাতের কারণে রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়, ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে এবং লাখ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। সোমবার তুষারপাত কমে এলেও তীব্র ঠাণ্ডা বিরাজ করতে থাকে যা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঝড়ের কারণে দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে চলে গেছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নগর কর্তৃপক্ষ তাদের জরুরি কর্মী ও সম্পদ বাসিন্দাদের, বিশেষ করে গৃহহীন মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজে লাগায়। এ দিন পর্যন্ত দেশটির কয়েক লক্ষ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ঝড়ের সময় শহরের বাইরে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কানসাসে এক নারীকে তুষারে ঢাকা অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয় এবং তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাইপোথার্মিয়া ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাসাচুসেটসে বরফ সরানোর যন্ত্রের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং টেনেসিতে আবহাওয়া-সংক্রান্ত কারণে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।
সোমবার সকাল পর্যন্ত টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি মানুষ তীব্র শীতের সতর্কতার আওতায় ছিলেন। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পুরো সপ্তাহজুড়ে স্থায়ী হতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যেতে পারে এবং এই পরিস্থিতি ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
পাওয়ারআউটেজডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৬ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, যার বড় অংশই দক্ষিণাঞ্চলে। মিসিসিপি ও টেনেসিতে বরফমিশ্রিত বৃষ্টির কারণে গাছ ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয় (অক্সফোর্ড ক্যাম্পাস) ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস বাতিল ঘোষণা করেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ায় রাস্তাঘাটে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে যাতায়াত ব্যবস্থাও চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইটআওয়ারডটকমের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ১০ হাজার ৫০০টি এবং সোমবার প্রায় ৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
তুষারপাতের পরিমাণ ম্যাসাচুসেটসে সর্বোচ্চ ২০ ইঞ্চি এবং পেনসিলভেনিয়ার কিছু এলাকায় ২৩ ইঞ্চি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে পাবলিক লাইব্রেরি, স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়াম এবং ন্যাশনাল জু সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহেও তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকতে পারে। এমনকি সপ্তাহের শেষ দিকে আরও একটি বড় শীতকালীন ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার বাসিন্দাদের সতর্ক করে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।