1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
‘থমকে’ আছে তাদের বয়স! - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

‘থমকে’ আছে তাদের বয়স!

  • প্রকাশিত : বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩
  • ২৩৪ 0 বার সংবাদি দেখেছে
শিমুল আহমেদ // ‘ছোটবেলা থেকেই তাকে সেই আগের মতো দেখছি’ শোবিজের জনপ্রিয় ক’জন শিল্পীর বেলার এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। আর এই তালিকায় আছেন- সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, শুভ্রদেব, গায়িকা মেহরীন, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, অভিনেত্রী নিপুণ আক্তার, রুনা খান, তারিন জাহান, জয়া আহসানসহ ক’জন। যাদের ক্যারিয়ারে শুরু হয়েছে সেই ৮০-৯০ দশকের দিকে। তবে রূপ, গুণ, কাজ আর শারীরিক গঠনে তাদের মধ্যে এখনো তারুণ্যের দেখা পাওয়া যায়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন, কীভাবে তারা নিজেকে ফিট রেখেছেন? ধরে রেখেছেন রূপ ও শারীরিক গঠন। এর পেছনের রহস্য কী? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন’র পক্ষ থেকে যোগাযাগ করা হয় জনপ্রিয় এই শিল্পীদের সঙ্গে।

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলায়। ছোট পর্দা দিয়ে শুরু হয় জয়ার অভিনয় ক্যারিয়ার। বহু বিজ্ঞাপন, নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি। এরপর পা রাখেন সিনেমাতে। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’। গুনে গুনে ৪০টি বসন্ত পার করলেও তাকে দেখে মনে হয়, চির তারুণ্য ভর করে আছে এই অভিনেত্রীকে।

জয়া আহসান জানান, সুস্থ-সুন্দর জীবন কে না চায়। নিজেকে ফিট রাখতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম আর খাওয়া-দাওয়ার প্রতি নজর দিতে হবে। নিজের সঙ্গে নিজেকে যুদ্ধ করতে হবে। জয়া সেভাবেই জীবন-যাপন করেন।

`তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’, ‘তুমি রোজ বিকেলে’ কিংবা ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ গানের গায়ক কুমার বিশ্বজিতের জন্ম ১৯৬৩ সালের ১ জুন চট্টগ্রামে। ১৯৭৭ সালে একটি রেডিও অনুষ্ঠানে প্রচার হয় তার প্রথম গান। এরপর ‘রিদম ৭৯’ নামে একটি ব্যান্ডে দুই বছর গান করেন এই শিল্পী। ১৯৭৯ সালে ফিলিংস নামে আরেকটি ব্যান্ড গঠন করেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৮২ সালে তার কণ্ঠে প্রকাশ হয় ‘তোরে পুতুলের মতো করে’ গানটি। যা দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করে নেন এই গায়ক। কুমার বিশ্বজিৎ জানান, তার সুস্থ থাকার পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর খাবারে বিশেষ মনোযোগ। আর সব সময় হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসেন তিনি।

অভিনেত্রী রুনা খানের জন্ম ও শৈশব কাটে টাঙ্গাইল শহরে। ১৯৯৮ সালে তিনি ঢাকা আসেন। আর ২০১৬ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘নাম গোত্রহীন’ মঞ্চ নাটকে অভিনয় দিয়ে শোবিজে পা রাখেন তিনি। এর থেকেই নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী নিজেকে বদলে নিয়েছেন তার ফেলা আসা দিনগুলোর সঙ্গে। যার প্রমাণ মেলে তার সদ্য প্রকাশিত ছবিগুলো দেখলেই।

রুনা খান বলেন, ‘আমি প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি করি। আর প্রতিদিনের তালিকায় ইয়োগার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় থাকবেই। এভাবেই চলছে জীবন। আর খাবার-দাবারের বিষয়ে তো একটু লাগাম টানতেই হয়। এটা অবশ্য সুস্থ থাকার জন্য খুব জরুরী। আমি ঠিক সেভাবেই খাবারের তালিকা তৈরি করেছি। মাঝে হয়তো একদিন রিচ ফুড খাওয়া হয়। তাও অল্প পরিমাণে। বেশি খাওয়া- এটা শরীরের জন্য মোটেও ভালো না।’

অভিনেত্রীর রুনা খানের সঙ্গে গায়িকা মেহরীনের কথারও মিল রয়েছে। তিনিও নিয়মিত যোগব্যায়াম আর খাওয়া-দাওয়া বেশ মনোযোগি। আর সে কারণে নিজের কণ্ঠ ও শরীর ধরে রেখেছেন অতীতের মতো। সঙ্গে নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন।

অভিনেত্রী নিপুণও গেল কয়েক মাস ধরে মনোযোগ দিয়েছেন শরীরচর্চায়। নিয়মিত জিম করার পাশাপাশি খাবারেও এনেছেন অনেক পরিবর্তন। শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখেন। এমনটা অভিনেত্রী তারিনের বেলাও। ৩৯ বছরে পা রাখা নিপুণের জন্ম ১৯৮৪ সালের ৯ জুন কুমিল্লায়। তার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৬ সালে ‘রত্নগর্ভা মা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে।

অন্যদিকে তারিন জাহানের জন্ম ১৯৭৬ সালে ২৬ জুলাই নোয়াখালীতে। ১৯৮৫ সালে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ ‘নতুন কুঁড়ি’র মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তার শোবিজে পথচলা। এরপর থেকেই নিয়মিত বিজ্ঞাপন, নাটক, টেলিছবিতে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন সিনেমাতেও। শুধু তাই নয়, গায়িকা হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে বিনোদন দুনিয়ায়।

গানের সোনালী সময়ের তারকা শুভ্র দেবের পথচলা শুরু হয় ‘হ্যামিলনের সেই বাঁশিওয়ালা’ অ্যালবাম দিয়ে ১৯৮৪ সালে। এরপর থেকে গানের ভুবনে একের পর এক হিট গান উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। এই সময়ে এসেও তার সুরেলা কণ্ঠে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। আর শারীরিক গঠনও আছে আগের মতোই। শুধু মাঝে বয়ে গেছে অনেকগুলো বছর।

শুভ্র দেবের ভাষায়, ‘আমি সুন্দর একটি জীবনযাপনের চেষ্টা করি। আর আজেবাজে কোন অভ্যাসও (সিগারেট, মদ বা তামাক নেওয়া) আমার নেই। প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমানো, সকালে ওঠা, খাওয়া-দাওয়া এগুলোর প্রতি বিশেষ নজর থাকে। আমি কিন্তু এখনও রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি। আর সকাল ভোরে ঘুম থেকে ওঠি। আরেকটা বিষয় সুস্থ থাকতে আমি নিয়মিত খেলাধুলা করি। সঙ্গে এও বিশ্বাস করি, শরীরির ওপর বংশগত বা জেনেটিক একটা বিষয় কাজ করে। আমার মধ্যেও এর একটা প্রভাব আছে।’

চিত্রনায়ক ফেরদৌসও শরীরচর্চা ও খাওয়া-দাওয়ায় বেশ যত্নবান। নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তিনি। সময় পেলে নেমে যান খেলার মাঠেও। বেশি রাত না জাগলেও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন তিনি। আর তারও কোন আজেবাজে অভ্যাস নেই বললেই চলে। সঙ্গে এড়িয়ে চলেন সকল দুশ্চিন্তাও।

এসব তারকা শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, নিয়মিত শরীরচর্চা আর খাবার, তাদের সুস্থ রাখতে অনেকটাই সাহায্য করছে। আর শরীর ফিট রাখতে তারাও বিশেষ নজর দিচ্ছে। যে কারণে সোনালী সময়ের এই তারকা শিল্পীদের দেখলে এখনও মনে হয়, সেই আগের মতোই আছেন তারা। বয়সের ছাপটা যেন তাদের কাছে এসে ‘থমকে’ গেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews