1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
শেবাচিমে ২০০ টাকার জন্য অক্সিজেন খুলে রোগীর মৃত্যু - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

শেবাচিমে ২০০ টাকার জন্য অক্সিজেন খুলে রোগীর মৃত্যু

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৭৬ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিউজ ডেস্ক।।  বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মাত্র ২০০ টাকা বকশিসের বিনিময়ে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় দিপালী সিকদার (৪০) নামে ওই নারী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই পৈশাচিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। উত্তেজিত স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ব্যাহত হয় সাধারণ চিকিৎসাসেবা।

নিহত দিপালী সিকদার বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে আজ দুপুর পৌনে তিনটার দিকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত করোনা বিল্ডিংয়ের মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা দুই ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

নিহতের ভাই মিলন হাওলাদারের অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন।
মিলন জানান,পার্শ্ববর্তী অন্য এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে মাত্র ২০০ টাকা দেয়। টাকার লোভে অন্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা হাত-পা ধরলেও সে শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোন মারা যায়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন!

দিপালীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে ধরে কলার চেপে ধরেন এবং টেনে-হিঁচড়ে বিচারের দাবি জানান। এক পর্যায়ে সোহেলকে গণধোলাই দেওয়া শুরু হলে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফরা কর্মচারীর পক্ষ নিয়ে স্বজনদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রাণভয়ে সাধারণ রোগীরা এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান,রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে বেদম মারধর করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করি এবং তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে রোগীটি আগে থেকেই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

সংঘর্ষের পর পরই অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। হাসপাতাল প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করলেও অভিযুক্তের বিষয়ে এখনো কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত দিপালীর পরিবার এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সোহেলকে অবিলম্বে স্থায়ী বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে একজন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই ঘটনা বরিশালের সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews