1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, নিহত ১৫ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, নিহত ১৫

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৩০ 0 বার সংবাদি দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আঞ্চলিক আইনসভায় সংরক্ষিত ১২টি আসন। এসব আসন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশক আগে পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করে আসছেন।

এই ইস্যুতে যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএসএসসি) নামে বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট বিক্ষোভের ডাক দেয়। তবে কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করে।

এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজারো মানুষ রাজধানী মুজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করে। তাদের অভিযোগ, আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসন এমন ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত, যারা বর্তমানে এই অঞ্চলে বসবাস করেন না।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসেবে, ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর একটি বিশাল বহর বর্তমানে রাওয়ালাকোট শহরের বাইরে অবস্থান করছে। পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মসজিদগুলো থেকেও বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর আকাশে নজরদারির জন্য হেলিকপ্টার টহলও চালানো হচ্ছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই অঞ্চলটিতে বুধবার মুজাফফরাবাদে একটি সামরিক এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা ২২ জনের সবাই নিহত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কেন চলছে বিক্ষোভ?

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে ১২টি আসন কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এসব আসনে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থী হতে পারেন না, যদিও আসনগুলো আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা বহু বছর আগে চালু করা হয়েছিল, যাতে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিরা অঞ্চলটির শাসনব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখতে পারেন। যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির দাবি, সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্বকে ক্ষুণ্ন করছে। তাদের মতে, আইনসভার সব আসনই ওই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সংরক্ষিত আসনগুলো অপরিহার্য এবং এগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি এক মতামতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমঝোতা বা জনচাপের মাধ্যমে এসব আসন বাতিল করা যাবে না।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে জেএএসি-কে নিষিদ্ধ করা হয়। তাদের দাবি, দলটি সন্ত্রাসে জড়িত এবং রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর আচরণ করেছে।

সংঘাতের সূত্রপাত কোথায়?

গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির সংঘর্ষের পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই সময় সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল। সরকারের দাবি, এর মধ্যে ৩৭টি দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তবে সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবি পূরণ সম্ভব নয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন, যার মধ্যে চারজন নিরাপত্তা সদস্য ছিলেন। মঙ্গলবার কোটলি শহরে আরও তিনজন নিহত হন। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ, ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব পদক্ষেপ অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews